kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

চব্বিশ ঘণ্টায় ভর্তি ৮৮ ডেঙ্গু রোগী

তানজিদ বসুনিয়া   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চব্বিশ ঘণ্টায় ভর্তি ৮৮ ডেঙ্গু রোগী

রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে এই হাসপাতালে। গতকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪৯৮ জন রোগী ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল ভবনের দশম তলায় অতিরিক্ত (পুরুষ) ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ৮৮ রোগীর মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৩৫ জন পুরুষ রয়েছে। ডেঙ্গুর চাপ সামলাতে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি হাসপাতালটির অন্যান্য বিভাগ থেকেও অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। আসনের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গতকাল শতাধিক রোগীকে মেঝেতে অবস্থান করার জন্য মাদুর সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট ৪৯৮ রোগীর মধ্যে হাসপাতাল ভবনের নবম ও দশম তলায় (স্পেশাল ওয়ার্ড) মেডিসিন বিভাগে রয়েছে ৩৭৩ জন। এর মধ্যে দশম তলায় (ডেঙ্গু স্পেশাল ওয়ার্ড) ১২১ জন পুরুষ ও নবম তলায় ২৫০ জন নারী ও শিশু ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালটিতে মোট ৯৭টি শিশু ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্যান্য বিভাগে রয়েছে বাকি ১২৭ জন রোগী।

এদিকে গতকাল দুপুর ২টায় হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বেড না পাওয়া রোগীদের জন্য শতাধিক মাদুরের ব্যবস্থা করেন। তিনি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিল।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ছাড়াও প্যাথলজি, ডায়াগনসিসসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ থেকে ডাক্তার ও নার্সদের নিয়ে গঠিত বিশেষ টিম ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজের ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ টিমও এ নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের (ইন্টার্ন) কাজে লাগানো হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দশম তলায় (স্পেশাল ওয়ার্ড) ভর্তি শাকিল আহমেদ বললেন, ‘ডাক্তার ও নার্সরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে রোগীর চাপ থাকায় ডাকলে তাঁদের আসতে একটু সময় লাগছে।’

আগে ইমার্জেন্সি বিভাগে সিনিয়র স্টাফ নার্সের দায়িত্ব পালন করা মো. রোকনুজ্জামান এখন মেডিসিনের ডেঙ্গু স্পেশাল (পুরুষ) ওয়ার্ডে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার শিফট সকালে থাকলেও এখন (বিকেল ৪টা) পর্যন্ত কাজ করছি। আরো বেশ কিছু সময় এখানে থাকতে হবে। কারণ সীমিত লোকবল নিয়েই আমাদের সেবা দিতে হবে। তবে সমস্যা থাকলেও আমরা সবাই (ডাক্তার-নার্স) মিলে কাজ করে যাচ্ছি।’

মেডিসিন ওয়ার্ড ইনচার্জ রাহেলা ইসলাম বলেন, ‘রোগীর চাপ সামলাতে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এটি শুধু পেশার কারণে নয়; সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক কারণেও আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি।’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী থাকছে। এখানে আগে ডেঙ্গুর জন্য কোনো আলাদা ওয়ার্ড ছিল না। মেডিসিন বিভাগে ছিল (পুরুষ-নারী মিলিয়ে) মাত্র ৬০টি আসন। সেখানে প্রতিদিন প্রায় সাত গুণ বেশি রোগী থাকা যেনতেন কথা নয়। কিন্তু আমরা এতে বিচলিত না হয়ে বরং বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে অতিরিক্ত ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা