kalerkantho

যত্রতত্র পানি জমে

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন মশার প্রজননক্ষেত্র

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন মশার প্রজননক্ষেত্র

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে চিকিৎসাবর্জ্য, ডাবের খোসাসহ নানা ধরনের জিনিস স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করছে মশা। ছবিটি গত মঙ্গলবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন মশা উৎপাদনের ‘কারখানা’য় পরিণত হয়েছে। সরকারি এ হাসপাতালের সামনের অংশ কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও এর পেছনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে যত্রতত্রভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে রোগীদের ব্যবহৃত ইনজেকশনের শিশি, সিরিঞ্জ, তুলা, গজ কাপড়, প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ, ডাবের খোসা প্রভৃতি। এতে বৃষ্টি পানি জমে মশা ডিম পেড়ে নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করছে। সরেজমিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। 

জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী কর্মী, তবে তিনি কাজ করেন না। তাঁর পরিবর্তে কাজ করেন অন্য একজন। এভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করায় ও কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো তদারকি করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লা-আবর্জনা যথাসময়ে পরিষ্কার হচ্ছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে মশা বংশবিস্তার করছে। এ ছাড়া চিকিৎসাবর্জ্য যত্রতত্র খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় রোগীরা ও এর আশপাশের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা সনিয়া আক্তার জানান, হাসপাতালের বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তা ছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাদের জন্য ব্যবহৃত চিকিৎসাবর্জ্য থেকে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরো যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, ‘সন্ধ্যা হলেই মশার উৎপাতে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে যান। মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে যে যার মতো মশারি ও কয়েল ব্যবহার করেন। এ ছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী থাকায় অন্য রোগীরা ও তাদের স্বজনরা এ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য লোক থাকলেও সবাই নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। কেউ রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখায়, কেউ আবার স্থানীয় লোক হওয়ায় কাজ না করেই বেতন-ভাতা তোলে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্যসহ যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট দুটি ডাস্টবিনে ফেলা হয়।’ তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে যত্রতত্র জমিয়ে রাখা ময়লা-আবর্জনা ও চিকিৎসাবর্জ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি হাসপাতালের পানি নিষ্কাশন নালাগুলো পরিষ্কার করার ফলে আবর্জনাগুলো জমা করা হয়েছে। ওগুলো শুকিয়ে গেলে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে।’

মন্তব্য