kalerkantho

শ্যামাসুন্দরী এখন মশা প্রজনন কেন্দ্র

রংপুর অফিস   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শ্যামাসুন্দরী এখন মশা প্রজনন কেন্দ্র

রংপুরে গতকাল সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ ডেঙ্গু রোগের বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর নগরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল এখন মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য খননকৃত শ্যামাসুন্দরী খালটি এখন নগরবাসীর আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেখানকার বিষাক্ত পানি যেমন পরিবেশ দূষিত করছে, তেমনি জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও শ্যামাসুন্দরী সংস্কারের নামে হয়েছে হরিলুট।

একসময় খাল সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আট কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশন ও দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ, তিনটি ব্রিজ নির্মাণ, একটি ব্রিজ বর্ধিতকরণ ও একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ কিছু কিছু স্থানে বাস্তবায়িত হলেও খালের অনেক স্থানেই হাঁটা রাস্তার অস্তিত্ব নেই। খালটির প্রকৃত প্রস্থ ৬০ থেকে ১২০ ফুট হলেও তা ১৫ ফুটে নামিয়ে এনে দুই পাশের সংস্কারকাজ করা হয়েছে। তাই অনেক স্থানে খালের জমি বেদখল হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেপটিক ট্যাংক তৈরি না করে খালের মধ্যে মল-মূত্রসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলছে। ফলে খাল ভরাট হয়ে ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে। অনেক স্থান ভরাট হওয়ার ফলে এটি খাল কি না, তা বোঝার উপায় নেই।

শ্যামাসুন্দরী খাল পরিষ্কার করতে নগরবাসী বিভিন্ন সময় আন্দোলন, সভা-সমাবেশ করলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি। সম্প্রতি ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় সিটি করপোরেশন খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও নগরবাসীর মধ্যে সংশয় রয়েছে। 

গত বুধবার এক সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। শ্যামাসুন্দরী খালসহ নগরের জলাশয় ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করছে।’

মন্তব্য