kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জলবসন্ত আতঙ্কে সবাই

জামালপুর প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জলবসন্ত আতঙ্কে সবাই

জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ঝোটন বণিক জলবসন্তে আক্রান্ত।

জামালপুর সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন জলবসন্ত রোগেও আক্রান্ত। কিন্তু তাঁকে শুধু ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রাখায় জলবসন্ত রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে তাঁকে দুই রোগেরই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের আরএমও।

এদিকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সিবিসি সেল কাউন্টার যন্ত্রটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে গত শনিবার থেকে এই হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

জামালপুর সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাঁওকুড়া গ্রামের জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী ঝোটন বণিক গত বৃহস্পতিবার জ্বর নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষার পর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। একপর্যায়ে জানা যায়, তাঁর জলবসন্তও হয়েছে। কিন্তু তাঁকে শুধু ডেঙ্গু রোগেরই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কে এম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘ঝোটন বণিক চার দিন ধরে জলবসন্তে আক্রান্ত। জলবসন্ত সাধারণত সাত দিন পর শুকিয়ে গেলে তখন তা ছড়াতে পারে। তবে এখন কোনো সমস্যা হবে না। তার পরও আজই তাঁকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে।’ তিনি বলেন, হয়তো আগেও তাঁর ডেঙ্গু হয়েছিল। এখনো তাঁর শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু রয়ে গেছে। আইজিজি ডেঙ্গু সাধারণত ১০ বছর ধরে শরীরে থেকে যেতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁকে ডেঙ্গু এবং জলবসন্ত রোগের চিকিৎসা একসঙ্গেই দেওয়া হচ্ছে।

ঝোটন বণিক বলেন, ‘আমি যেদিন ভর্তি হই সেদিন থেকেই আমার শরীরে জলবসন্ত ছিল। তখন ছোট ছিল বলে বুঝতে পারিনি। এখন জলবসন্ত পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি এখানকার নার্স ও চিকিৎসকদের অনেকবার বলেছি কিন্তু তাঁরা কোনো গুরুত্ব না দিয়ে আমাকে শুধু ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিচ্ছেন।’

সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সিবিসি সেল কাউন্টার যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে গত রবিবার কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন দাবি করা হয়, সিবিসি সেল কাউন্টার যন্ত্রটি নষ্ট হয়নি, বিদ্যুতের আর্থিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এটি কাজ করছে না। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল একজন প্রকৌশলী এসে নিশ্চিত করেন সিবিসি যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে।

সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা. তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, আর্থিংয়ের কারণেই যন্ত্রটি কাজ করছিল না। পরে আজ (সোমবার) সকালে টাঙ্গাইল থেকে একজন প্রকৌশলী এসে যন্ত্রটি নষ্ট বলে জানান। এটি ঠিক করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা