kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

তিন দিন ধরে ডেঙ্গু শনাক্ত পরীক্ষা বন্ধ

মির্জাপুরে কিট সংকট

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন দিন ধরে ডেঙ্গু শনাক্ত পরীক্ষা বন্ধ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে এসে জায়গার অভাবে আউটডোরের বেঞ্চে শুয়ে পড়েন কাটমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষ্মী রানী দাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে কিট সংকটের কারণে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ডেঙ্গু শনাক্ত কার্যক্রম। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কুমুদিনী হাসপাতালে গত এক মাসে ৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। গতকাল সোমবার কুমুদিনী হাসপাতালে তিন শিশুসহ ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের শিল্পী বেগম, বহুরিয়া গ্রামের জুলেখাসহ কয়েকজন বলেন, জ্বর নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার ডেঙ্গু শনাক্ত করতে পরীক্ষা লিখেছেন। কিন্তু হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লক্ষ্মীরানী দাস জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরে বেঞ্চে শুয়ে আছেন। স্বামী ভরত চন্দ্র রাজবংশী জানান, তাঁর স্ত্রী বসতে ও দাঁড়াতে পারছেন না। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ডাক্তার সিবিসি, ইএসআর, ইউরিন পরীক্ষা দিয়েছেন।

বেসরকারি ক্লিনিক শহরের বংশাই ডিজিটাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ১৪৫ টাকার কিট ৪০০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।

মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম অনিমেশ ভৌমিক জানান, কিট না থাকায় গত রবিবার হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে আসা পাঁচজনকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনা হয়।

কুমুদিনী হাসপাতালে স্থাপিত অত্যাধুনিক সিএইচআরএফ ল্যাবের ইনচার্জ সৌমিত্র চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হতো। কিট সংকটের কারণে গত তিন দিনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা অন্তত ১৫০ জন রোগীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কুমুদিনী হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. দীপঙ্কর রায় বলেন, ডেঙ্গু রোগীর শরীরে রক্তনালি থেকে রক্তের জলীয় অংশ টিস্যু থেকে দূরে চলে আসে। রক্তের এই জলীয় অংশ কমে আশায় রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং প্লাটিলেট (অণুচক্রিকা) কমে যায়। তাতে ব্লাড প্রেসার কমতে থাকে। শরীরের বড় অর্গানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত চলাচল করতে না পারায় লিভার, হার্ট ও ব্রেনে আঘাত হানে। এই উপসর্গে যেকোনো ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে।

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে কখনো ডেঙ্গু শনাক্তের কাজ করা হয়নি। এই রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিট পেলেই ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কাজ শুরু করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা