kalerkantho

ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু বিস্তারের শঙ্কা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু বিস্তারের শঙ্কা

ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে বরিশালমুখী মানুষকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে বরিশাল বিভাগের সব হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এরই মধ্যে প্রতিটি জেলা শহরের জেনারেল হাসাপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওষুধ ও ডেঙ্গু শনাক্তকরণের পর্যাপ্ত উপকরণ আনাসহ অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার চন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কালেজ হাসপাতাল, জেলা শহরের ছয়টি জেনারেল হাসপাতাল ও ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেনারেল হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিভাগের ৪০টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, ঈদে ঢাকা থেকে কয়েক লাখ মানুষ বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আসবে। এতে ডেঙ্গু রোগের বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া ঘরমুখো মানুষের মালপত্রের সঙ্গে এডিস মশা আসারও আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগেভাগেই সম্ভাব্য আক্রান্ত মানুষের সেবায় হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার চন্দ্র বলেন, ‘আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় বিভাগের জেনারেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে ৪০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কায়েক লাখ মানুষ এডিস মশার উত্পত্তিস্থল ঢাকা থেকে বরিশালে আসবে। ধরণা করা হচ্ছে, বারিশালগামী ওই সব মানুষের মধ্যে অনেকেই ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করবে। ডেঙ্গু আক্রান্তরা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা শহর ও গ্রামগঞ্জে অবস্থান করবে। তাদের যাতে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়—সে জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

এদিকে বিভাগীয় শহরে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত রবিবার পর্যন্ত ১৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এ হাসপাতালে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার আবাসস্থল ঢাকা। আর ঈদে ঢাকা থেকে লঞ্চ ও বাসযোগে বরিশালমুখী মানুষের ঢল নামবে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বরিশালে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন পাঁচতলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের একটি ফ্লোরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে ৫০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও পরীক্ষার উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে।’

মন্তব্য