kalerkantho

কুড়িগ্রামে চিকিৎসক সংকটে শঙ্কা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামে এ পর্যন্ত ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সদর হাসপাতালে ১৯ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রয়েছে শয্যা সংকটও। আসন্ন ঈদে সম্ভাব্য রোগীর চাপ সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় শঙ্কিত জেলাবাসী।

সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল। অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গতকাল রিলিজ দেওয়া হয়েছে দুজনকে। এ ছাড়া এর আগে আরো ১৪ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ছয়জন রোগীকে। বাকিরা রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে গেছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়া রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ও ফুলবাড়ীতে চিকিৎসা নিয়েছে একজন।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করাসহ ডেঙ্গু কর্নার খোলা হলেও চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। বিশেষ করে আসন্ন ঈদে ডেঙ্গু রোগীদের সম্ভাব্য চাপ সামলানো নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া রোগীর চাপ বাড়লে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট স্বল্পতার কারণে রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যাবে।  

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ৪২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছে ১১ জন। আর গোটা হাসপাতালের ২৬৬ পদের বিপরীতে জনবল রয়েছে মাত্র ১২৩ জন। এদিকে আসন্ন ঈদে ঢাকা ফেরত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটে ধুঁকে চলা এ চিকিৎসাকেন্দ্র কতটুকু চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে—তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’

গত দুই তিন আগে চিকিৎসক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘২৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে এত অল্পসংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে সেবা দেওয়া আসলেই খুব কঠিন। তবুও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা