kalerkantho

বদরগঞ্জ পৌরসভা

উদ্বেগেও নির্বিকার পৌর কর্তৃপক্ষ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এত দিনেও ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পৌরসভার স্টোররুমে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা দুটি অকেজো ফগার মেশিন মেরামতের জন্য ডাকা হয় মোটরসাইকেল মেকারকে। তা চালু করতে না পারায় অবশেষে পাঠানো হয়েছে রংপুরে। এত দিনে মশা নিধনে কাজের কাজ হয়েছে এ পর্যন্তই। ফগার মেশিন দুটি চালু করা সম্ভব হলে দু-একদিনের মধ্যে মশা নিধনে ওষুধ স্প্রে করার কথা জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ফগার মেশিনের কোনো ওষুধও মজুদ নেই পৌরসভায়। এ অবস্থায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পৌরবাসীর মধ্যে। এদিকে গত দুই সপ্তাহ আগে দুজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হলে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শুধু সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু মোকাবেলায় মিটিং ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 

দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় এরই মধ্যে মশা নিধনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানো হচ্ছে। অথচ বদরগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। এতে বাড়ছে মশার বংশবিস্তার। কোথাও কোথাও নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ড্রেনগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে পৌর কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। যত্রতত্র ময়লার স্তূপ থাকায় রাস্তায় চলাচলে পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত গতিতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও ড্রেন থেকে ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পৌরবাসী। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ে দিন দিন বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। অনেকেই বলছে, ডেঙ্গুর মহামারি ঠেকাতে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

বদরগঞ্জ পৌরসভার সচিব আবু হেনা মোরশেদ আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ওষুধ স্প্রে না করার কারণে দুটি মেশিন পড়ে থেকে অকেজো হয়ে গেছে। মেরামত করার জন্য বদরগঞ্জের কয়েকজন মোটরসাইকেল মেকারকে ডেকে আনা হয়। কিন্তু তারা মেরামত করতে না পারায় রংপুরে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মেশিন ভালো হলে দু-একদিনের মধ্যে পৌরসভায় ওষুধ স্প্রে করা হবে। ওষুধ কেনার জন্য ঢাকায় অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পৌরসভায় মাইকিং করা হবে।’

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুল আনাম কোহিনুর বলেন, ‘এত দিনেও মশক নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যক্রম হাতে নেয়নি, এটা সত্য। এমনকি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কোনো মাইকিংও করা হয়নি।’ কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা মেয়রই ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে পৌর মেয়র উত্তম কুমার সাহা বলেন, ‘দুটি ফগার মেশিন আছে। কিন্তু ব্যবহার না করার কারণে তা অকেজো হয়ে গেছে। মেরামত করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কাল থেকে (আজ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচারকাজ চালানো হবে।’

 

মন্তব্য