kalerkantho

কিট সংকটেও নির্ভার চিকিৎসকরা!

শেরপুরে ২৪ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

শেরপুর প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুরে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের অন্যতম পরীক্ষা এনএসওয়ানের কিট সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চিকিৎসকদের দাবি, বর্তমানে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) ও আইজিজি পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে না। তা ছাড়া শিগগিরই এনএসওয়ান এন্টিজেন টেস্ট কিট এসে যাবে।

গতকাল রবিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর জেলা হাসপাতালে আরো দুজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলা হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলো। এর মধ্যে বর্তমানে ১২ জন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তা ছাড়া গতকালও দুজন চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে। এর আগে আরো ৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বাইরে আরো ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রাইভেট প্র্যাকটিশনাররা। তাঁরা বলেছেন, এসব ডেঙ্গু রোগী গ্রুপ-এর (প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত) অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে।

জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের সবাই ঢাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেরপুর আসার পর জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে একটি ডেঙ্গু কর্নার করেছি। সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। শেরপুরে যেসব ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, তারা সবাই গ্রেড-এ ক্যাটাগরির। গ্রেড-বি কিংবা গ্রেড-সি ক্যাটাগরির কোনো রোগী নেই। স্থানীয়ভাবেও কেউ আক্রান্ত হয়নি। এ জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া এনএসওয়ান স্ট্রিপের সংকট থাকলেও ডেঙ্গু শনাক্তকরণে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কারণ যেসব রোগী আসছে, তারা তিন-চার দিন জ্বরে ভোগার পরই আমাদের কাছে আসছে। আমরা ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছি। এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

এদিকে গতকাল দুপুরে জেলা হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে ডেঙ্গুবিষয়ক জনসচেতনতা ও এর আপডেট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন শেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে এতে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিম মিয়া, শেরপুর বিএমএর সভাপতি ডা. এম এ বারেক তোতা, সাধারণ সম্পাদক ডা. নাদিম মাহমুদ, এমওসিএস ডা. মোবারক হোসেন প্রমুখ।

জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খাইরুল কবির সুমন বলেন, ‘বর্তমানে ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলছে। স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে তারা শেরপুর এসেছে।’

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেরপুরে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না সেসব বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিনই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো না কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে হানা দিয়ে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন। তা ছাড়া শেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করে মশার আবাস ও প্রজননস্থলগুলো নির্মূল করার অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষও ডেঙ্গু সচেতনতায় আগের চেয়ে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করছে। নিজেদের বাড়িঘর, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ডাবের খোসা, টায়ার, পরিত্যক্ত পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে নজর রাখছে। এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এসেছে।

মন্তব্য