kalerkantho

ফগার মেশিন নষ্ট উদাসীন কর্তৃপক্ষ

ফুলবাড়িয়া - ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও জমে থাকা পানি মশা উত্পাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পৌরবাসী। গত তিন বছরেও মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফগার মেশিন নষ্ট উদাসীন কর্তৃপক্ষ

মশার বংশবিস্তার : জামালপুর শহরের ফুলাবাড়িয়া এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে ডাবের খোসার স্তূপ পরিণত হয়েছে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে। ডাবের খোসার পানিতে কিলবিল করছে মশার লার্ভা (ইনসেটে)। ছবি : কালের কণ্ঠ

পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে ফুলবাড়িয়া পৌর শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তার পাশে ও ড্রেনগুলোর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পানি জমে রয়েছে। এসব ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও জমে থাকা পানি মশা উত্পাদনের কারখানা বলা যায়। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পৌরবাসী। মশার যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারছে না সাধারণ মানুষ। গত তিন বছরের মধ্যে মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি ফুলবাড়িয়ায়। পৌরসভার একটি মাত্র ফগার মেশিন প্রায় দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে পৌরসভার স্বাস্থ্য সহকারীর কক্ষে।

গত বুধবার সরজেমিনে পৌরসভার প্রাণিসম্পদ অফিস রোড, পশ্চিম বাজার রোড, পোস্ট অফিস রোড, পরিষদ রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সড়কের দুই পাশে পানি জমে রয়েছে। যেখানে পানি রয়েছে সেখানে মশা-মাছির ঝাঁক দেখা যায়। উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটসংলগ্ন ফুল্লরা চত্বরের সামনে রাস্তার পাশে বেশ কয়েক দিন ধরে পানি জমে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বাস দাঁড় করিয়ে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী সেখানে নামে। এতে তাদের প্রায় মশার কামড় খেতে হয়।

পৌর শহরের গৌরিপুর মহল্লায় এক শিশুর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত সাদিয়া এখন কিছুটা সুস্থ। তার চিকিৎসাচলছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

গত বুধবার থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার জন্য ৫০টি এনএস-১ অ্যান্টিজেন স্ট্রিপ দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তিনজনের ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা হয়। তবে তারা কেউই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি।

পৌরসভার সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না।’ এ সময় তিনি পৌরসভার ফগার মেশিন নষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেন।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় পৌরসভার সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে।

আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ বলেন, বুধবার থেকে এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজনের পরীক্ষা করা হয়েছে। কারো শরীরে ডেঙ্গুর ভাইরাস ধরা পড়েনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার দাবি করেন, পরিষদ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। পৌরসভার ফগার মেশিনটি নষ্ট থাকায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে শিগগিরই একটি ফগার মেশিন কেনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা