kalerkantho

নীলফামারীতে মশা নিধন কার্যক্রম স্থবির

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীতে মশা নিধন কার্যক্রম স্থবির

নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে এ পর্যন্ত ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একজন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। অন্য চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এলাকায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নীলফামারীতে আক্রান্তরা হলেন ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম (২৫), একই ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের হরিদাস রায় (৩০), জেলা সদরের চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নের কিসামত, দলুয়া গ্রামের সুজন রায় (১৬) ও জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার আব্দুল লতিফ (৪৫)।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার পর্যন্ত ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের আব্দুর রহিম সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। গত ২৫ জুলাই জেলা সদরের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় গ্রামের পরিতোষ রায় হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজন রায় বলেন, ‘হরিদাসসহ ঢাকার সাভারে থেকে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। সেখানে জ্বরে আক্রান্ত হলে ২৯ জুলাই বাড়িতে আসি। ৩১ জুলাই রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হই।’

একইভাবে আব্দুল লতিফ ঢাকার যাত্রাবাড়িতে থাকতেন। গত ১৮ জুলাই ছুটিতে বাড়ি এসে জ্বরে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হন একটি কারখানার শ্রমিক রিয়াজুল ইসলাম।

সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, জেলায় শুক্রবার পর্যন্ত ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা সবাই ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

এদিকে নীলফামারী শহরজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে থাকায় এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ওই আবর্জনা অপসারণ ও মশা নিধনে দিনমজুরির চুক্তিতে লোক নিয়োগ করে কাজ শুরু করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

পৌরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী খায়রুল ইসলাম বলেন, পৌর মেয়রের উদ্যোগে ৩৬ জন দিনমজুর নিয়োগ করে গত ৩১ জুলাই থেকে শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সব ডাস্টবিন পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ড্রেনগুলোতে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

শুক্রবার পৌরসভার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। বিভিন্ন এলাকার ড্রেনগুলোতে জমে আছে ময়লা পানি, যা মশার আবাসস্থল হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে শহরের বাবুপাড়ার লীনা দে (৪০) বলেন, গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। এসব আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে বাসা-বাড়িতে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রপ বেড়েছে। এতে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় দিনমজুরির চুক্তিতে লোক নিয়োগ করে আবর্জনা পরিষ্কার ও মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করি আগামী তিন দিনের মধ্যে গোটা পৌরসভা আবর্জনামুক্ত করতে পারব।’

 

মন্তব্য