kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ডেঙ্গুর সুযোগে পকেট ভারী

চট্টগ্রামে থামেনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ‘ফি বাণিজ্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই দিনের জ্বরে সারা শরীরে ব্যথা, বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মিল্টন দে নামের এক যুবক গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আউটডোরে আসেন। চিকিৎসক তাঁকে পরামর্শ দেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করার।

চমেক হাসপাতালে এই পরীক্ষা করতে না পেরে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক বিভাগে কর্মরত মিল্টনকে স্বজনরা নিয়ে যায় চিটাগাং স্কয়ার নামে একটি

বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৯০০ টাকা। অর্থাৎ সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকা ফির চেয়ে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা বেশি নিয়েছে চিটাগাং স্কয়ার। ডেঙ্গু শনাক্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মিল্টনকে চমেক হাসপাতালের ১৪ নং মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এদিকে চাকরি সূত্রে এক মাস আগে ঢাকায় গেছেন ফটিকছড়ি দাঁতমারা এলাকার আলমগীর হোসেন। ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় একটি পরিবারের সঙ্গে সাবলেট থাকা আলমগীর এই সময় তিন দফায় জ্বরে আক্রান্ত হন। সব শেষ এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে। গত বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শুধু ওই দুজনই নয়, চমেক হাসপাতালে মেডিসিনের তিনটি ওয়ার্ডে গতকাল পর্যন্ত ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর কাছ থেকেই গত কয়েক দিনে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ডেঙ্গু পরীক্ষায় ফি বেশি নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৮ জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু এর পরও চট্টগ্রাম নগরের নামি-দামি ও সাধারণ ডায়াগনস্টিকগুলোর অনেকেই সরকার নির্ধারিত ফি থেকে কয়েক গুণ বেশি ফি নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রামের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, ডেঙ্গু নিয়ে দেশব্যাপী জনমনে এক ধরনের উদ্বেগ-আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডেঙ্গু রোগীরা হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে। এসব রোগীকে নিয়ে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। ২৮ জুলাইয়ের আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা ফি ১২০০ থেকে প্রায় ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এখনো অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তা বহাল রয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষায় বেশি ফি নেওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁরা চমেক হাসপাতালের সামনে বেসরকারি চিটাগাং স্কয়ার ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে। পরদিন গত বুধবার বিকেলে নগরের অভিজাত বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর এবং প্লাজমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও জরিমানা করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা