kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

হাজারীবাগ

ডেঙ্গু রোগী আছে প্রায় গলিতেই

জহিরুল ইসলাম   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গতকাল তাঁর এলাকার যে ১১টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড (হাজারীবাগ) সেগুলোর একটি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে ওই এলাকার প্রায় গলিতেই ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

এই ওয়ার্ডের হাজারীবাগ বড়মহল্লার ৩৭ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আলম মিয়া বলছিলেন, ‘ডেঙ্গু নাকি নাই, পোলাটা জ্বরে ভুগতে ভুগতে এহন কথা বন্ধ হয়ে গেছে। দুই দিন ধইরা তার লগে কথা হয় না। ডাক্তার তো একেক দিন একেক কথা কয়। কইলো রক্তের কি জানি (প্লাটিলেট) কইম্যা ৬০ হাজার হইয়া গেছে। পরে আবার কয় ১৪ হাজারে চইলা আইছে! আজ তো কিছুই কইলো না!’

এই ওয়ার্ডের মনেশ্বর রোড, মনেশ্বর লেন, বাড্ডানগর লেন, বোরহানপুর লেন, কুলাল মহল লেন, কাজীরবাগ লেন, নবীপুর লেন, হাজারীবাগ লেন, হাজারীবাগ রোড, কালুনগর, এনায়েতগঞ্জ, ভাঙ্গী কলোনি, নীলাম্বর সাহা রোড, ভাগলপুর লেনসহ প্রায় সব গলিতেই রয়েছে ডেঙ্গু রোগী।

এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সম্পর্কে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি তরিকুল ইসলাম সজীব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি ঘরে খবর নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর তেমন প্রকোপ হাজারীবাগ এলাকায় নেই। কেউ গুরুতর আছে কি না, তা জানা নেই।’

৬ নম্বর কোয়ার্টারের ৬ নম্বর বাড়ির গোলির লিপি বেগম (৩৮) ও ছেলে কাউসার আলম তুহিন (১৯) প্রায় একই সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তি হন। স্ত্রী-সন্তানের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে স্বামী জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানকে আট দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে।’

বড়মহল্লা কলোনির ৪৬ নম্বর বাড়ির হাওয়া বেগম জানান, তাঁর একমাত্র মেয়ে সাহারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সে ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি আছে। ডেঙ্গু হয়েছিল হাওয়া বেগমেরও।

হাজারীবাগ গণকটুলি ৩৬/৩ নম্বর বাড়িতে থাকেন মো. হারুস। ছয় দিন ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন তিনি। এখন বাসায় ডাক্তারের কথামতো পানি, শরবত, স্যালাইন আর নিয়মিত খাওয়াদাওয়া করতে হচ্ছে তাঁকে। দিনমজুর হলেও চলতে হচ্ছে নিয়মমাফিক।

এই বাসার পাশে ৪৫/৩ নম্বর বাড়ির বেলি চৌধুরীকে তো রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে পর্যন্ত থাকতে হয়েছে। ১৭ তারিখ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছাড়া পান ২৪ জুলাই। তিনি বলেন, ‘এখন মোটামুটি সুস্থ আছি। কিন্তু মেয়েটাকে নিয়ে ভয়ে আছি। আল্লাহ মাফ করুক; আবার ওকে কখন ডেঙ্গু জ্বরে ধরে!’

১১৭ হাজারীবাগ এলাকায় এক গ্যারেজে থেকে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন শেরপুরের মিজান। সাত দিন ধরে জ্বরে ভুগে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয় ওষুধের দোকানদারের কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা