kalerkantho

নিউ মার্কেট, আজিমপুর ও লালবাগ এলাকা

মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে উদ্যোগ নেই

১০ দিনে ঢাবির ১৮ হলের ১৫০ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত

হাসান মেহেদী   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে উদ্যোগ নেই

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীদের দুটি আবাসিক হল রয়েছে—বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল। হল দুটিতে ১২ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে আক্রান্ত সাতজনের মধ্যে তিনজন বাড়িতে চলে গেছেন। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফজিলাতুন্নেসা, কুয়েত মৈত্রীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থীর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিউ মার্কেটের পাশেই ঢাকা কলেজ। কলেজের নর্থ হলে চারজন ও সাউথ হলের ছয় শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ঢাবির দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশুরা খাতুন থাকেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলে। পাঁচ-ছয় দিন ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন তিনি। বুধবার রাতে রক্তের প্লাটিলেট কমতে থাকায় ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে।

এ ছাড়া নিউ মার্কেট, আজিমপুর ও লালবাগ এলাকার বাসিন্দারা আছে ডেঙ্গু আতঙ্কে। এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, মশার উৎপত্তিস্থলগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। সরু রাস্তার মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ; আবর্জনায় ভরা এলাকার নর্দমাগুলো। আজিমপুর ইরাকি কবরস্থান মাঠজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পচা সবজি। মাঠের পাশেই জঙ্গলে জমে আছে পানি। আজিমপুর শেখ সাহেব বাজার, লালবাগ ঢাকেশ্বরী এলাকার নর্দমাগুলোতেও একই চিত্র। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সপ্তাহে দু-একবার মশা মারার ওষুধ ছিটালেও আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসীর।

লালবাগ ছোট ভাটপাড়ার বাসিন্দা ইদরীস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ সারা দেশেই। আমাদের মহল্লার বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছে। প্রায়ই কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের লোকজন দু-এক দিন পর পর ওষুধ ছিটালেও আতঙ্ক কাটছে না।’    

আজিমপুর ইরাকি মাঠে কথা হয় বিকেলে হাঁটতে বের হওয়া এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পরপরই ওষুধ ছিটাচ্ছে করপোরেশনের লোকজন। তবে মশার জন্মস্থল ধ্বংস করতে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে এই মাঠে খেলা করে। কিন্তু মাঠের আশপাশে ঝোপঝাড় রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেখানে। এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। শিক্ষার্থীর মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। গত বুধবার সারা দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ডিভাইসের মাধ্যমে ১৩ শিক্ষার্থীর আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ দিনে ওই ১৩ জনসহ প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।

সূত্র মতে, বিজয় একাত্তর হলে ৫২ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ১০ জন, সূর্যসেন হলে ৯ জন, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও জিয়া হলে সাতজন করে, বঙ্গবন্ধু হল ও জহুরুল হক হলে ছয়জন করে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, কুয়েত মৈত্রী হল, রোকেয়া হল ও সুফিয়া কামাল হলে পাঁচজন করে, জসীমউদ্দীন হল, জগন্নাথ হল ও শহীদুল্লাহ হলে তিনজন করে, স্যার এফ রহমান হল ও শামসুন্নাহার হলে দুজন করে, একুশে হল ও মুহসীন হলে একজন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত। 

ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক ডা. সারওয়ার জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়েই মেডিক্যাল সেন্টারে এসে ডেঙ্গু ও প্লাটিলেটের সংখ্যা পরীক্ষা করছে।

মন্তব্য