kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন হাসপাতালে

সিলেট অফিস   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আরো ২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর আগে গত বুধবার ভর্তি হয়েছিল ১৬ জন রোগী। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এ নিয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪ জনে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশা নিধন অভিযান ছাড়াও সচেতনতামূূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিলেট সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নতুন ২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আরো সাতজন রোগী ভর্তি হয়। এর আগে গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ওসমানী হাসপাতালে ১৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছিল ১৫ জন রোগী। এ নিয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪ জনে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুরে আলম শামীম। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিলেটে শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীর বেশির ভাগই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে।’

এদিকে মশা নিধনে সিলেট সিটি করপোরেশনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল নগরের ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬০টি স্প্রে মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। এ ছাড়া নগরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমা নছিবা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এসব কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম সুমনসহ কর্মকর্তারা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিদিন আমরা মানুষকে নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আজও (বৃহস্পতিবার) একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরের প্রায় সাতটি ওয়ার্ডে মশা নিধন অভিযান চালানো হয়েছে।’

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজখবর রাখছি। এখন পর্যন্ত সিলেটে যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে তার বেশির ভাগই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে। তাই বলে সিলেট যে এডিসমুক্ত তা বলা যাবে না। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে সামনে ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি আসবে তাদের নিয়ে। ঢাকা থেকে যারা ছুটিতে সিলেট আসবে তাদের অবশ্যই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তাদেরকে মশারির নিচে রাখতে হবে।’ ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মশা কামড়ায়। তাই ওই সময়টাতে ফুলহাতা কাপড় পরার চেষ্টা করা। দিনের বেলায় ঘুমানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই মশারি টানানো উচিত।’ যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গেছে তাদের শরীর থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু বের না হওয়া পর্যন্ত সব সময় মশারির ভেতরে রাখতে হবে। তা না হলে তার মাধ্যমে সহজেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়বে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা