kalerkantho

রংপুরে বাড়ছেই রোগী রোগ শনাক্তে জটিলতা

রংপুর অফিস   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে বাড়ছেই রোগী রোগ শনাক্তে জটিলতা

রংপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রংপুর সিটি করপোরেশন ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এদিকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তা ছাড়া চিকিৎসকরা বিকেলের পর রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্স ছাড়া আর কাউকে সন্ধ্যার পর পাওয়া যাচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের সভাকক্ষে গত মঙ্গলবার এক মতবিনিময়সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোস্তফা খালেদ আহমদ, ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক এ কে এম গোলাম কিবরিয়া, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সুলতান আহমেদ, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নুর ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবীর, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি আব্দুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ। এ সময় এডিস মশা ও ডেঙ্গুর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুর মহানগরীতে বর্তমানে এডিস মশা কিংবা ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। রংপুরে ডেঙ্গু নেই বললেই চলে। ঢাকায় আক্রান্তরাই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছে। তবুও রংপুর সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গত সোমবার রংপুর নগরীর চেকপোস্ট এলাকার শ্যামাসুন্দরী খালে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ কাজে দুই শতাধিক কর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করা হচ্ছে। ২৫ থেকে ৩১ জুলাই সপ্তাহব্যাপী রংপুর সিটি করপোরেশন আয়োজনে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্পে রংপুর নগরীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন করেছে।

এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক দিনে নতুন করে আরো পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে ৬৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে সাতজন নারী, ৫১ জন পুরুষ ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের পাঁচজন ছাড়া বাকি সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মতবিনিময় ছাড়াও জনসচেতনতার জন্য শোভাযাত্রা, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে, বিতরণ করা হয়েছে ৪০ হাজার লিফলেট, মাইকিং করে সব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর প্রচার চালানো হচ্ছে, ঝোপঝাড় ও নর্দমা পরিষ্কারের পাশাপাশি সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সব ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

নতুন করে ভর্তি রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিকেলের পর চিকিৎসকরাও রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়া আর কাউকে সন্ধ্যার পর থেকে পাওয়া যায় না। এখানে তাঁরা ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন না বলে মনে করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকার জানান, রোগীদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য