kalerkantho

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি চার গুণ

♦ রক্ত পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তি চরমে
♦ চিকিৎসাধীন ৬৫৩ জন

জহিরুল ইসলাম   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি চার গুণ

‘পোলার বাপ বাইরে খাড়াইয়া আছে। আমি কোনো রহমে এই জায়গায় থাইক্কা পোলাটারে বাঁচানের চেষ্টা করতে আছি। খালি বুমি করে। আর শরীরখান গরম হইয়া আছে। আহারে আমার পোলার লগে আরো তিনটা ফুইট ফুইট্টা পোলাপাইন! ডেঙ্গুতে কাইল কইরা ফেলছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানকে ভর্তি করানো মা মাহমুদা বেগম বলছিলেন কথাগুলো। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ নতুন ভর্তি হয়েছে ৯৯ জন। রোগীর বাড়তি চাপে মোট শয্যার বাইরেও ভর্তি নিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তবে এই চাপ শিশু ওয়ার্ডগুলোতে সবচেয়ে বেশি। গতকাল পর্যন্ত চার গুণ বেশি শিশুকে ভর্তি নিতে হয়েছে। চলতি বছর শুধু জুন-জুলাই মাসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৩৭৭ জন। গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল ৬৫৩ জন।

শয্যা না থাকায় অতিরিক্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের ঠাঁই হয়েছে ওয়ার্ডগুলোর বারান্দায়, সিঁড়ির সামনে, শৌচাগারের পাশে, লিফটের সামনেসহ বিভিন্ন জায়গায়। পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে আগের ২৮ ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সঙ্গে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে আরো চারজন। ১৯ শয্যার এই ওয়ার্ডে মোট ভর্তি আছে ৭৪ জন।

ডেঙ্গু মহামারির মতো দেখা দিয়েছে দেশে। অথচ মশার বাসস্থান দেখা গেল ঢাকা মেডিক্যালের ২ নম্বর বিল্ডিংয়ের চারতলার বারান্দায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিশু ওয়ার্ডের ৪ নম্বর বেডে যাত্রাবাড়ী থেকে আসা ইয়াসিন (১০), মহাখালী থেকে আসা রায়হান (৮) ও মিরহাজারীবাগ থেকে আসা মারুফ (১০)সহ চারটি শিশুকে রাখা হয়েছে। এভাবে প্রায় প্রতিটি শয্যায়ই গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে শিশুদের।

রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রোগীর চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও সেবিকাদের মেডিসিন বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ আরো চাহিদার কথা মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’

রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তি

হাসপাতালের নতুন ভবনের (মেডিক্যাল ভবন-২) দ্বিতীয় তলায় হাসপাতালের পূবালী ব্যাংক শাখায় রক্ত পরীক্ষার টাকা জমা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকছে সারা দিন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, দুই পাশ থেকে সিঁড়ি পর্যন্ত আলাদাভাবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো কয়েক শ রোগী ও স্বজন। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হাতের বাঁ পাশে মানুষের হট্টগোল আরো বেশি।

মন্তব্য