kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কার্যকর পদক্ষেপ নেই

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কার্যকর পদক্ষেপ নেই

দেশজুড়ে ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। রাজশাহী হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। কিন্তু এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে সচেতনতামূলক কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। সভা-সেমিনার, শোভাযাত্রা, ওয়ার্ডপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে নগরবাসীকে সচেতন করাসহ সপ্তাহব্যাপী নানা ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গুবাহী মশা নিধনে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি।

সরেজমিনে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এ বছর নগরীর কোথাও ফগার মেশিনের সাহায্যে মশা নিধনে কীটনাশক ছিটানো হয়নি। ফলে নগরীর ড্রেন থেকে শুরু করে, ছোট ছোট ডোবা ও পানি জমে থাকা স্থানগুলোতে মশা ঘরবাড়ি বানিয়ে রেখেছে। মশার অত্যাচারে নগরবাসী দিনের বেলাও মশারি টানিয়ে ঘুমাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিদিন রাজশাহী হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে নগরবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নগরীর সাধুর মোড় এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, ‘প্রতিদিন টিভি খুললেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। রাজশাহীতেও নাকি ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। কিন্তু মশা মারার জন্য তো সিটি করপোরেশন থেকে কোনো উদ্যোগ দেখছি না। সিটি করপোরেশনের ড্রেনগুলোও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। এ কারণে মশা বংশবিস্তার করছে ব্যাপকহারে। মশার অত্যাচারে টেকাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকার স্টেডিয়ামের চারদিকে ময়লা-আবর্জনা ও জঙ্গলে ভরা। এগুলো পরিষ্কারেরও কোনো উদ্যোগ দেখি না। এতে মশার অত্যাচার অনেক বেড়েছে।’

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মশা মারার জন্য আগে কীটনাশক স্প্রে করা হতো। কিন্তু এ বছর তো তা চোখেই পড়েনি। ড্রেনগুলোতে মশা সারা দিন ভন ভন করে। এগুলোই বাসাবাড়িতে গিয়ে মানুষের শরীরে হানা দিচ্ছে। বাড়ছে রোগ-বালাই।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আর্থিক সংকট ও নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে মশক নিধনে ফগার মেশিনের সাহায্যে স্প্রে করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন রাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, ‘মশক নিধনে ফগার মেশিনের সাহায্যে স্প্রে করতে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এত টাকা আমাদের কাছে নেই। তবে মশার লার্ভা নিধনের জন্য আমরা নিয়মিত খোলা ড্রেনগুলোতে ওষুধ স্প্রে করি।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত ৩৭ জন রোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আর দুজন রোগীর অবস্থা শংকটাপন্ন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা