kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গড়ে তুলতে চাই

ইয়াশা সোবহান, পরিচালক, বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গড়ে তুলতে চাই

বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন এখন শুধু একটি স্কুলই নয়, এটি হয়ে উঠেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাস্তব জীবনে অংশ নিতে পারার পথে এক বিরাট আশার স্থান। আর এই বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের যাত্রার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যাঁর অবদান, তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব আহমেদ আকবর সোবহান। বসুন্ধরা গ্রুপের মতোই ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে’ তাঁর সর্বাঙ্গীণ প্রেরণা এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সম্প্রতি তিনি স্কুলটিকে ট্রাস্টিতে রূপান্তর করেছেন, ফলে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন হয়েছে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

এ ছাড়াও ছোটবেলা থেকে আমার মা দিলারা মোস্তফাকে দেখেছি বিভিন্ন রকমের জনহিতৈষী কাজে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ায় উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে আমিও নানা জায়গায় গিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল পরিদর্শন করেছি, আর বুঝেছি প্রতিবন্ধী শিশুরা বোঝা নয়, বরং তাদের মাঝে আছে উন্নত ও ভিন্নতর মেধা, যা সঠিক প্রশিক্ষণে বিকশিত হতে পারে। তখন থেকেই আমার আগ্রহ জন্মেছিল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটা স্কুল প্রতিষ্ঠার।

বিশ্বের অনেক দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে নানা আয়োজন বা ব্যবস্থা থাকে, যাতে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত সমাজের মূলধারায় সংযুক্ত হতে পারে। সেই রকম অনেক প্রতিষ্ঠান দেখতে গিয়েছি দেশের বাইরে, আর অর্জন করেছি এ বিষয়ে সম্যক ধারণা। দেখেছি কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তি আর বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার মিশেলে প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে রপ্ত হচ্ছে। এই সব অভিজ্ঞতা আমাকে প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবায় নিয়োজিত হতে অনেক সাহায্য করেছে।

প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জীবনযাপনের দরকারি কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারে, বিশেষ করে মেয়েশিশুরা যাতে সংসারজীবনে কারো মুখাপেক্ষী না হয়, তাই আমাদের ফাউন্ডেশনে ভোকেশনাল শিক্ষায় বেশি জোর দিয়েছি। তবে একাডেমিক শিক্ষায়ও আমাদের স্কুলের শিশুরা পিছিয়ে নেই। মোটকথা, পরবর্তী সময়ে যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিক হতে সাহায্য করে এমন পথেই আমরা তাদের গড়ে তুলছি।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আমাদের স্কুল বর্তমানে সিনিয়র ও জুনিয়র সেকশনের কাজ দুটি আলাদা ভবনে চলমান। ভবিষ্যতে স্কুলটি আরো বড় কলেবরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের আছে। এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান কার্যক্রম চালু করে এবং বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদেরকে আমরা বিশ্ব স্পেশাল অলিম্পিয়াড লেভেলের যোগ্য করতে চাই।

বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনে স্বল্পসংখ্যক আবাসন ব্যবস্থা ইতিমধ্যে আছে। ঢাকার বাইরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এটা মূলত অস্থায়ী ব্যবস্থা। তবে আমরা লক্ষ করেছি, আবাসিক ব্যবস্থার চেয়ে শিশুরা তাদের মা-বাবার সঙ্গে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক পরিচর্যার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন আরো দৃশ্যমান হয়। বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন নিয়ে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। দু-এক বছরের মধ্যে আমাদের স্কুলের আয়তন আরো বাড়ানো হবে, যেখানে এই শিশুদের নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে মেডিক্যাল সেটআপ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা কেউ যেন সঠিক চিকিৎসার অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে আমরা সচেতন।

আপনারা হয়তো লক্ষ করবেন, বসুন্ধরা পেপার, টিস্যু বা হাইজিন পণ্যের প্রতিটি প্যাকেটে উল্লেখ থাকে, ‘এক টাকা যাবে অটিস্টিক স্কুলের উন্নয়নে’। বসুন্ধরা পেপার মিলসের বিক্রীত পণ্যের একটি নির্দিষ্ট অর্থ আমরা বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনে ব্যবহার করছি। সামাজিক দায়বদ্ধতার বাইরে মানবিক দিক থেকে আমরা কাজগুলো করছি। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব আহমেদ আকবর সোবহানের ঐকান্তিক ইচ্ছায়ই এটি সম্ভব হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা