kalerkantho

গ্রামের নামই পাল্টে দিয়েছেন রহমান

স্বপন চৌধুরী   

১১ মার্চ, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



গ্রামের নামই পাল্টে দিয়েছেন রহমান

নিজ কারখানায় উৎপাদিত বেনারসি শাড়ি দেখাচ্ছেন আবদুর রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

আবদুর রহমানের কাছে শিক্ষা নিয়ে গ্রামে অনেকেই বেনারসি শাড়ির কারখানা গড়েছেন। দারিদ্র্যের কাছে আবদুর রহমান পরাজিত হননি। জীবনে অনেক দুঃখকষ্ট এসেছে। কিন্তু নিজের দুঃখকষ্ট দূর করার পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। এখন তাই সবাই হাবু চওড়াপাড়া গ্রামকে বলে আবদুর রহমানের বেনারসির গ্রাম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একসময়ের প্রত্যন্ত এলাকা হলেও নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের সীমানা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্ব গজঘণ্টা ইউনিয়নের হাবু চওড়াপাড়া গ্রামের। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে এখন মূল শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ। এক যুগ আগেও অন্য দশটি গ্রাম থেকে আলাদা করে দেখার মতো কিছুই ছিল না এখানে। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মানুষের কাছে বিশেষ কদর লাভ করেছে গ্রামটি। তা-ও আবার ভিন্ন নামে। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করতে এই গ্রামে গড়ে ওঠা বেনারসিপল্লী, যা আজ সারা দেশে সমাদৃত। এই শিল্পের কারণেই আজ গ্রামটির পুরনো নামের পরিবর্তে 'বেনারসিপল্লী' নামেই চেনে সবাই। আর এই বেনারসিপল্লী গড়ে ওঠার কারিগরের নাম আবদুর রহমান।

দিনমজুর আবদুর রহমানের অদম্য ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেখার। কিন্তু সমস্যা একটাই- আর্থিক অনটন। ইচ্ছা থেকেই একদিন কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন, হয়ে যান নিরুদ্দেশ। চলতে থাকে লজিং ও টিউশনি। ম্যাট্রিকও পাস করেননি রহমান। কিন্তু শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় তাঁর মন ভরে না। কারিগরি দিকে ঝোঁক বেশি। অভাব থাকলেও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করেন। চলে যান ভারতে, সেখান থেকে পাকিস্তানে। এরপর ইরান, আরব আমিরাত। ঘুরে বেড়িয়েছেন আর নিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা। সেই প্রশিক্ষণ সম্বল করে প্রায় ২০ বছর পর ঘরে ফেরেন তিনি। শুরু হয় তাঁর কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম। বিকাশ হতে লাগল তাঁর বেনারসি শাড়ির কারখানা। আরো লোককে প্রশিক্ষণ দিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত একটা বেনারসি গ্রাম।

রাস্তার পাশেই আবদুর রহমানের পাকা বাড়ি। একটি ঘরে বোনা হচ্ছে বেনারসি। পলেস্তারাবিহীন ২০ ফুট বাই ২০ ফুটের ঘরটির মেঝে কাঁচা। ৯টি মেশিনে হরদম কাজ হচ্ছে শাড়িতে সুতা বোনার। এরই পাশে অর্ধনির্মিত পাকা দেয়াল, ছাউনি নেই। সেখানেই রান্নাবান্না। পাশেই ছোট্ট কুঁড়েঘর, যেখানে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকেন আবদুর রহমান। পরিচয়পর্বের পর শুরু হলো কথোপকথন। টানা দুই ঘণ্টা নিজের গল্প বলে গেলেন তিনি।

আবদুর রহমানের বয়স বর্তমানে ৫৫ বছর। মা-বাবা দুজনই মৃত। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। একটিই বোন। তিনিও মারা গেছেন। পরিবারের আর্থিক অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কিন্তু এই পেশা তাঁর মোটেই ভালো লাগছিল না। পড়াশোনার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল প্রবল। আর এ জন্য তিনি প্রথমেই ভর্তি হন বাড়ির পাশের হাবু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, পরে গজঘণ্টা হাই স্কুলে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সেখানে পড়ার পর গ্রামে আর তাঁর মন বসল না। বাড়ি থেকে পালালেন। দুঃখকষ্ট, ক্ষোভ-যন্ত্রণা নিয়ে ১৯৮৪ সালে পাড়ি জমালেন নীলফামারী জেলায়। সেখানে হারোয়া গ্রামের একটি বাড়িতে লজিং থাকলেন। ওই বাড়ির একটি ছেলেকে পড়াতেন, বিনিময়ে থাকা-খাওয়া। এরই ফাঁকে প্রাইভেট টিউশনির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন। মাত্র একটি ক্লাস উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেখানেও তাঁর মন বসল না। এবার ছুটলেন ঢাকায়। লজিং থেকে পড়াশোনা শুরু করলেন মিরপুর শহীদ স্মৃতি স্কুলে। সেখান থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। পরীক্ষার পর পরই আবারও নিরুদ্দেশ হলেন। এবার ভিন দেশে।

যে বাড়িতে লজিং ছিলেন ওই বাড়ির মালিক জালাল দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। গন্তব্য ছিল করাচি। কিন্তু প্রথমে গেলেন ভারতে, সড়কপথে। পাসপোর্ট না থাকায় যেতে হয়েছে চোরাপথে। ভারতের আজমির থেকে দিলি্ল এবং তিন মাস পর সেখান থেকে পাকিস্তানের করাচি। জায়গা হলো করাচির এক বাঙালির বাসায়। ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে একটা চাকরিও জুটে গেল, বেতন ৭৫০ রুপি। ৮-৯ মাস কোনো রকমে পেটে-ভাতে চলল তাঁর জীবন। করাচি থেকে আবারও সড়কপথে ইরানযাত্রা। ইরানের সামুদ্রিক এলাকা বান্দারবাস শহরে বাঙালিরা থাকে। সেখানে সিলেট প্রবাসীদের একটি মেসে উঠলেন তিনি। ১৫-২০ দিন ঘোরাফেরা করার পর একটা কাজও জুটল। ইস্পাহান শহরে পাওয়ার লুমের কাজ। অবশ্য শর্ত ছিল প্রশিক্ষণের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না। পরে চাকরির বেতন থেকে মাসে মাসে প্রশিক্ষণের টাকা কেটে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি তিন বছর কারিগর হিসেবে চাকরি করেন। ইস্পাহানের ঘরে ঘরেই এ ধরনের কারখানা। সময় ও সালের কথা সঠিক না বলতে পারলেও রহমান বলেন, সে সময় খোমেনি ও সাদ্দাম হোসেনের যুদ্ধ চলছিল। অর্থাৎ ইরান-ইরাক যুদ্ধ। সেখানে তিনি আয়-উপার্জন করেছিলেন প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৪ হাজার ইরানি দিরহাম। এ টাকা দেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে একসময় বাংলাদেশের এক ডাক্তারের মাধ্যমে তিনি ইরান থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন।

এখানেও মন টিকল না রহমানের। তিন বছর যেতে না যেতে ইরান ছাড়লেন তিনি। এবার গেলেন আরব আমিরাতে। সেখানে এক প্রবাসী সিলেটির কাপড়ের দোকানে সেলসম্যানের চাকরি নিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে বাড়ি থেকে চিঠি আসে। চিঠিতে জানতে পারেন, তাঁর বাবা হোসেন আলী মারা গেছেন। বাড়ির চিঠি, বাবার মৃত্যু তাঁকে আবার তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের কথা মনে করিয়ে দিল। ঠিক করলেন, আর এভাবে জীবন নয়। এবার দেশে ফিরতে হবে। এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে আবারও গ্রামের চিঠি। এবারও দুঃসংবাদ। বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় মারা গেছেন মা আনোয়ারা বেগম। যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! তিনি ছুটে এলেন গ্রামের বাড়িতে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী সময়টা ১৯৯৩ কিংবা ১৯৯৪ সাল হবে।

গ্রামে এসে ভাইদের নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করলেন আবদুর রহমান। ওই সময়ে তাঁর ভাইরা গ্রামের গৃহস্থবাড়িতে দিনমজুরি করতেন। ভাইদের হালের বলদ ও জমি কিনে দিলেন তিনি। সে সঙ্গে কিছু জমি বন্ধকও নেওয়া হয়। এভাবে কাটে প্রায় এক বছর। এরপর আবদুর রহমান ও তাঁর ভাইদের জীবনে আবার নেমে আসে দুর্যোগের ঘন আঁধার। বাটপাড়রা তাঁর টাকা মেরে খায় বন্ধক নেওয়া জমিগুলোর। পুনরায় নিঃস্ব হওয়ার পথে এগোতে থাকেন আবদুর রহমান। এমন অবস্থায় গ্রামে আর মন টিকতে চায় না। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে আবারও পাড়ি দেন ঢাকায়। উদ্দেশ্য, আবারও বিদেশ যাওয়া। এবার তিনি প্রতারিত হলেন আদম ব্যবসায়ীদের কাছে। ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এক আদম ব্যবসায়ীকে বিদেশ যাওয়ার জন্য। সেই লোক লাপাত্তা। খোয়া যায় পুরো টাকা। লাজ-লজ্জা-অপমানে বাড়িও আসতে পারছেন না। সবাই জানে তিনি চলে গেছেন বিদেশে। এমনি করে ঢাকায় দুঃসহ জীবন কাটে ছয় মাস।

মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে প্রতিদিন টিউশনি করতেন ৮ থেকে ১০টি। শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট না থাকলেও ছিল মেধা। টিউশনির টাকা দিয়ে শিখলেন মোটর ড্রাইভিং। ড্রাইভিং শেখার পর দুই হাজার ২০০ টাকা বেতনের একটি চাকরি জুটল প্রাইভেট গাড়ির। এই পেশায় মন ভরে না তাঁর। ছেড়ে দিলেন। কিন্তু প্রাইভেট টিউশনি চলতে থাকল। প্রাইভেট পড়াতে পড়াতেই পরিচয় অবাঙালি ছেলে সদরু মিয়ার সঙ্গে। সদরু মিয়া মিরপুরের ১০ নম্বরে বেনারসি শাড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করে। সদরু তাঁর কাছে কারখানাতেই লেখাপড়া শিখত। সদরুর মুখে বেনারসি শাড়ির গল্প শোনেন রহমান। একটি শাড়ি ওঠাতে পারলে ৬০০-৭০০ টাকা পাওয়া যায়। প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২টি শাড়ি তৈরি করা যায়। আর তা থেকে আয় হয় প্রতি মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকা। আবদুর রহমান সদরুর কাছে আগ্রহ দেখায় বেনারসি শাড়ি তৈরির কৌশল শেখার। সদরু রহমানের কাছে প্রাইভেট পড়ে। কোনো টাকা দেয় না। বিনিময়ে বেনারসি শাড়ি তৈরির কাজ শেখায়। অবসর সময়ে ছয় মাসে কাজ শিখে ফেলে আবদুর রহমান। ওই কারখানার মালিক ইকবাল তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হন। সেখানই জুটে যায় চাকরি। একটি তাঁত মেশিন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। দীর্ঘদিন সেখানে তিনি কাজ করেন।

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু এরই মধ্যে চালু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাই আবদুর রহমান ভাবেন, গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বেনারসি শাড়ি উৎপাদনে কিছু একটা করা যায় কি না। চাকরি করতে করতে সামান্য কিছু টাকাও জমিয়েছিলেন। সেই টাকা ও ধারকর্জ করে মোট ৪০ হাজার টাকা নিয়ে এবার ঝুঁকি নিলেন। তিনি নিজেই গ্রামে এসে বেনারসি শাড়ির কারখানা গড়লেন। ওই টাকা দিয়ে দুটো তাঁত কিনে আনা হলো। গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে যাত্রা শুরু করলেন। সঙ্গে ছোট ভাই। তাঁরা দুজনই কারিগর। এই হ্যান্ডলুম কারখানা বসানোর পাশাপাশি গ্রামের মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করতে লাগলেন। সময়টা ১৯৯৮ সাল। প্রথম প্রথম মানুষ তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেয় না। নিজের কারখানায় মনোনিবেশ করে উৎপাদন করতে থাকেন বেনারসি শাড়ি। দুটি তাঁত বেড়ে চারটি হয়। এরপর এক এক করে ৯টি মেশিন হয়ে যায়। ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ঘটে। গ্রামজুড়ে মানুষ কানাঘুষা করতে থাকে আবদুর রহমানকে নিয়ে।

গ্রামের মানুষ জানে না বেনারসি কী। এই শাড়ি কিভাবে উৎপাদন করতে হয়। সবাই জানে, এই বেনারসি শাড়ি বড়লোকদের বিয়েতে বউ এবং ওই সব বাড়ির মহিলারা পরেন। তাচ্ছিল্য-কানাঘুষাকে তোয়াক্কা না করেই আবদুর রহমান তাঁর কারখানায় শাড়ি তৈরির কাজ করে চলেন। একসময় গ্রামের লোকজন আর বসে থাকে না। তারা দেখতে আসে রহমানের উদ্ভাবিত বেনারসি শাড়ি। আসেন শহর-গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আবদুর রহমানের উন্নতি দেখে এবার অনেকে মানুষ এগিয়ে এলো। তারাও বসাবে তাঁত, উৎপাদন করবে বেনারসি শাড়ি। আবদুর রহমান বিনা পারিশ্রমিকে ১৯৯৯ সাল থেকে তাঁতশিল্পে আগ্রহী লোকদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন, করেন সহযোগিতা। গ্রামের লোকজন আবদুর রহমানের কাছে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে একটি-দুটি করে তিন বছরের ব্যবধানে ৫০টি তাঁত কারখানা স্থাপন করে ফেলে।

রংপুরের অজপাড়াগাঁ হাবু চওড়াপাড়া গ্রামে কথা হলো আবদুর রহমানের সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, বেনারসি শাড়ির সুতা ঢাকা থেকে নিয়ে আসেন। এর উপকরণ খুব একটা বেশি নয়। দুই শতাধিক মানুষকে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর কারখানায় পরিবারের সদস্যসহ বর্তমানে ১৮ জন কাজ করে দিন-রাত। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০টা শাড়ি তৈরি হয় তাঁর কারখানায়। আর গ্রামের কারখানাগুলোতে সব মিলিয়ে শাড়ি তৈরি হয় প্রায় ৫০০। আবদুর রহমানসহ সবাই এই শাড়ি ঢাকায় বিক্রি করেন পাইকারদের কাছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু লোক এসে এখান থেকেও নিয়ে যায়। আবদুর রহমানের একটি শাড়ি এক হাজার ৮০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এখানে তাঁর প্রতি মাসে আয় অন্তত ২০ হাজার টাকা। সমস্যার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামে প্রায় ২০০ তাঁত স্থাপন করা হলেও ধীরে ধীরে তা কমে যাচ্ছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। তিনি দাবি জানালেন সরকারি অনুদানের।

আবদুর রহমানের কাছে শিক্ষা নিয়ে গ্রামে অনেকেই বেনারসি শাড়ির কারখানা গড়েছেন। এমন কয়েকজন ব্যক্তি আনোয়ারুল, জোবেদ আলী, আলম, মাসুম, মনসুর আলী বলেন, 'তাঁরা আশাবাদী। কেননা শাড়ি বিক্রি হচ্ছে, লাভও হচ্ছে ভালো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো আরো ভালো করা যাবে।'

দারিদ্র্যের কাছে আবদুর রহমান পরাজিত হননি। জীবনে অনেক দুঃখকষ্ট এসেছে। কিন্তু নিজের দুঃখকষ্ট দূর করার পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। এখন তাই সবাই হাবু চওড়াপাড়া গ্রামকে বলে আবদুর রহমানের বেনারসির গ্রাম।

মন্তব্য