kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

নির্লোভ মানুষ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১০ মার্চ, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



নির্লোভ মানুষ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির নানা বিভক্তির মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে তাঁর পার্টি সিপিবি অনেক সংকটের মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছে। দেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষায় তাঁদের পার্টি সামনের কাতারে লড়াই করছে। শ্রমিকের পক্ষে অথবা কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে লড়ছে সিপিবি।

মর্ত্যবাসীর স্বর্গে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ ঘুচিয়ে শ্রেণীহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভ্লাদিমির ইলিচ উইলিয়ানভ লেনিন ১৯১৭ সালে যে বিপ্লব করেছিলেন রাশিয়ায়, পরবর্তী বছরগুলোয় সারা পৃথিবীতে এর চেয়ে শক্তিশালী মতাদর্শিক বা চেতনার ঝড় আর বয়ে যায়নি। কৃষক-শ্রমিকের সাধের সেই সমাজতন্ত্র বালির বাঁধের মতো ধসে পড়েছে রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার প্রিয় লেনা নদীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের নাম রেখেছিলেন লেনিন। কিন্তু সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতনের পর শুধু রাশিয়া থেকে নয়, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্ক্সের জন্মস্থান জার্মানি থেকেও 'গুড বাই লেনিন' জানানো হয়। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে আধুনিক পশ্চিমাদের পাবের নগ্ন নৃত্য, হ্যামবার্গারের সঙ্গে কোকা-কোলার ককটেল পার্টি। চেয়ারম্যান মাও জে দংয়ের লাল চীন কবেই যাত্রা করেছে পশ্চিমাদের বণিকতন্ত্রের ভোগবিলাসে। সমাজতন্ত্রের এমন নিদারুণ পরাজয়ে সারা পৃথিবীর বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যবিত্তরা এত বিবর্ষ হয়েছেন, যেন তাঁরা সবাই 'দ্য আউটসাইডার'-এর একেকটি অবিকল নায়ক চরিত্র। এ রকম সময় বরং কোনো বহুজাতিক কম্পানির সুউচ্চ কাচঘেরা ঘরে কফির সঙ্গে বৃষ্টির পতনের গান অনেক বেশি আনন্দ আর বেঁচে থাকার জন্য ঢের তৃপ্তিদায়ক। তবু তো কেউ কেউ অতীতের কথা বলেন। মনে করিয়ে দিতে চান, বিপ্লব আসন্ন। 'একটু জোরে পা চালিয়ে কমরেড।' এ রকম জোরে পা চালানোর কথা যাঁরা বলেন, এখনো শ্রেণীহীন সমাজ, রাষ্ট্র বিপ্লব সম্পন্ন করার রাজনীতির চেষ্টা যাঁরা করে যাচ্ছেন, তাঁদের একজন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি রাজনীতি শুরু করেন সারা দুনিয়ার কমিউনিস্টদের রুশ-চীনা বিভক্তির যুগে। রুশপন্থী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সখ্য বজায় রাখেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর বাকশাল ভেঙে দিলে আবারও কমিউনিস্ট পার্টি স্বনামে ফিরে আসে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশের একটি কমিউনিস্ট পার্টি কোনো বুর্জোয়া দলের ভেতরে বিলীন হওয়ার ইতিহাস এটাই হয়তো প্রথম। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সিপিবির ভেতরেও সমালোচনা হয়। সম্ভবত এ কারণেই এবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট গঠনের পর সিপিবি দূরত্ব বজায় রেখেছে।

পাকিস্তানের জন্মের পায় এক বছর পর ১৯৪৮ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার অদূরে সাভারে জন্মগ্রহণ করেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম খান। বাবা মোসলেহ উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি কর্মচারী। আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনের সময় নিজের নামের শেষের খান পদবি তুলে ফেলেন। পথচলা শুরু হয় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নামে।

শৈশবে তিনি অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, বিজ্ঞানী হয়ে যন্ত্র আবিষ্কার করবেন। শৈশব ও কৈশোরে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। তবে সব কিছু পাল্টে দিল খালাতো ভাই মনজুরুল আহসান খানের (সিপিবির আগের কমিটির সভাপতি) কাছ থেকে পাওয়া কমিউনিস্ট ইশতেহার বা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। তখন তিনি এসএসসির ছাত্র। দুনিয়া পরিবর্তনের এই ছোট্ট পুস্তিকাই তাঁর জীবনে গভীর পরিবর্তন আনল। ক্রমে তিনি রূপান্তরিত হতে থাকলেন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াকু সৈনিকে।

এরপর নিবিষ্ট মনে একের পর দুনিয়া পরিবর্তনের বিজ্ঞান আত্মস্থ করতে থাকলেন। শুরু হলো ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে পথচলা। একসময় নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি পার্টির সভ্যও হয়ে যান।

ছয় দফার জন্য জীবনে প্রথম জেল : বিপ্লবী রাজনীতিতে কারাগার বা জেল জীবনের অন্যান্য স্বাভাবিক বিষয়ের মতো একটি অনুষঙ্গ মাত্র। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে তখন পূর্ব পাকিস্তানে চলছে আন্দোলন। ছয় দফাকে কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থন দিয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের পূর্ণদিবস হরতাল। কমিউনিস্ট পার্টিও ওই হরতালে সমর্থন দেয়। সে সময় সেলিমের বয়স ১৮ বছর। তিনি ফিরে যান স্মৃতিতে, পার্টির নিদের্শ ছিল জনতার সঙ্গে থাকো। পার্টির এই নির্দেশ মেনে হরতালে পিকেটিং করতে গেলে স্টেডিয়ামের সামনে থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সামারি কোর্টে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেটাই ছিল আমার প্রথম জেলজীবন। এরপর বহুবার কারাগারে গেছি।'

মুক্তির যুদ্ধের যোদ্ধা : সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও যখন পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করছিল তখনই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল, বাঙালিদের হাতে তারা ক্ষমতা দেবে না। মুক্তির জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে। উত্তাল সেই সময় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মার্চের শুরু থেকেই প্রতিরোধযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের মনোটভ ককটেল, হাই এক্সপ্লোসিভ কিভাবে তৈরি করতে হয় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই রাইফেল কাঁধে নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের এক বিশাল বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ থেকে বের হয়ে ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সুসজ্জিত প্যারেড সংগঠিত করে। সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধের এই অনুশীলনের নেতৃত্বে ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে প্রতিরোধযুদ্ধে তিনি ছিলেন সবার আগে। 'মুক্তি না হয় মৃত্যু'- এই স্লোগান নিয়ে তিনি চলে যান ভারতে। ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টির যে গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়েছিল, সেই বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেলিম প্রথম ব্যাচে ট্রেনিং নিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে অপারেশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশের বিজয় অনিবার্য হয়ে যায়। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সেলিম ২০০ জনের একটি বড় গেরিলা দল নিয়ে ঢাকার উপকণ্ঠে শ্রীনগর, দোহার ও কেরানীগঞ্জ থানার সংযোগস্থলের চুরাইন গ্রামে এসে পৌঁছেন। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর এই বড় গেরিলা দলের ইউনিটটি ঢাকায় ঢোকার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। সিদ্ধান্ত হয়, ছাত্রনেতা মাহবুব জামানের নেতৃত্বে একটি ছোট গ্রুপ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া হয়ে ঢাকায় ঢুকবে। আর মূল বাহিনী সেলিমের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ঢুকবে। ১৬ ডিসেম্বর ভোরবেলা ঢাকার দিকে যাত্রা শুরু করে এই গেরিলা দলটি সেলিমের নেতৃত্বে। পথে বিকেলবেলা খবর আসে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর এই গেরিলা দলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে অস্ত্র উঁচিয়ে শপথ নেয়। সেদিন ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা দলটির 'লাখো শহীদের রক্তে মুক্ত স্বদেশ, এসো এবার গড়ি দেশ' স্লোগান দিয়ে শুরু হয় নতুন দেশ গড়ার নতুন সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে সরব ছিলেন তিনি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবার নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর শুধু খুনি মোশতাকই নয়, তৎকালীন আওয়ামী লীগের বহু নেতাই তখনকার সরকারে যোগ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ পড়ে আছে ৩২ নম্বরে আর আওয়ামী লীগের বহু নেতাই নতুন মন্ত্রিপরিষদে শপথ নিচ্ছেন। তখন শেখ মুজিবের নাম নেওয়াটাও ছিল অপরাধ। অথচ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ১৫ আগস্টই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে ৪ নভেম্বর ঢাকার রাজপথে বের হয় বিক্ষোভ মিছিল। সেটাই ছিল নেতার মৃত্যুর পর প্রথম সংগঠিত কোনো প্রতিবাদ। জেলখানায় জাতীয় চার নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে সেলিম ৫ নভেম্বর হরতাল আহ্বান করেন। এসবের কারণেই তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। বিনা বিচারে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কারারুদ্ধ থাকেন।

নির্লোভ জীবনে সঙ্গী প্রিয়তমা স্ত্রী : সার্বক্ষণিক রাজনীতি ও দেশের কথা চিন্তা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের সব আরাম-আয়েশকে তিনি তুচ্ছ করলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণী পাওয়া সেলিম হয়তো অনায়াসে একটি সচ্ছল জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বড় একটি চাকরি করতে পারতেন। পাড়ি জমাতে পারতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে। সেসবের কিছুই না করে তিনি মনোনিবেশ করলেন সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে।

রাজনৈতিক জীবনে নানা সময়ে ক্ষমতার হাতছানি তাঁকে টলাতে পারেনি। রাজনীতির বাইরে তাঁর কোনো পেশা নেই। চলেন স্ত্রীর আয়ে। বিপ্লবী রাজনীতিতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আসার কোনো পথ নেই। ফলে তাঁকে নির্মোহ ও নির্লোভ জীবনই বেছে নিতে হয়েছে।

'জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালের শেষ দিক থেকে ১৯৭৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দুই বছর জেল খেটে বেরিয়ে মা-বাবাকে একটি শর্ত দিয়ে বিয়ে করতে রাজি হন তিনি। সেই শর্ত ছিল, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ভরণ-পোষণ করতে যিনি রাজি থাকবেন তাঁকে তিনি বিয়ে করবেন। যেহেতু বামপন্থী রাজনীতি যদি পথ না হারায় তাহলে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সে কারণে এ রকম নিরেট বামপন্থী একজন রাজনীতিবিদকে কে বিয়ে করবেন- এমন ধারণাই ছিল হয়তো সেলিমের। অবশেষে একজন নারীকে পাওয়া গেল, যিনি মুজাহিদুল ইসলামের ভরণ-পোষণ দিয়ে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি। ১৯৭৯ সালের ৫ আগস্ট তাঁদের বিয়ে হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের স্ত্রী নাসিমা সুলতানা তাঁর দেওয়া শর্ত থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি। এই দম্পতির দুই সন্তানের ভরণ-পোষণও তিনি চালিয়ে গেছেন।

ব্যক্তিজীবনে মৃদুভাষী নাসিমা সুলতানা ছাত্রজীবন থেকেই সেলিমকে জানতেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাও ছিল। কিছুদিন তিনি ছাত্র ইউনিয়নও করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণীতে পাস করেও যিনি নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে নিজের ভোগবিলাসের কথা চিন্তা করেননি।

দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে বড় কোনো ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হয়নি সেলিম ও নাসিমাকে। যেটুকু সংকট এসেছে, সেটা হলো আর্থিক সমস্যা। তবে সেটাকে তাঁরা সংকট বলতে রাজি নন। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মানুষ হিসেবে এটাও খুব বড় বিষয় নয়। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বাবা শেষ বয়সে আট ছেলেমেয়ের জন্য বাড়িটা তৈরি করে গেছেন বলে অনেক সুবিধা হয়েছে।

মেয়ে স্বর্ণালি ইসলাম ও ছেলে তৌহিদুল ইসলাম খান সুমন্তকে নিয়ে সেলিম-নাসিমা দম্পতির চারজনের সংসার। অবশ্য স্বর্ণালি এখন আর তাঁদের সঙ্গে থাকে না। সুমন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অধ্যয়ন শেষে একটি রেডিওতে সাংবাদিকতা করছেন।

ষাটের দশকের টগবগে সেই তরুণ আর নেই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলো, এখনো কি বিপ্লব হওয়া সম্ভব? মৃদু হেসে তিনি জানালেন, 'একদিন অবশ্যই পৃথিবীতে সাম্যবাদ আসবে। শ্রেণীহীন সমাজ আসবেই।' এমন দৃঢ়তায় বললেন কথাগুলো, যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন তিনি। আবার যুক্ত করলেন সেলিম, 'যত দিন শ্রেণী থাকবে, তত দিন শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই থাকবে, শ্রেণীহীন সমাজের লড়াইও তত দিন থাকবে। বিপ্লব আসবেই।'

মুজাহিদুল ইসলামের এমন আশাবাদী চাওয়া সত্য হোক আর না হোক, কোনো মানুষ যখন মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখেন, কাজ করেন, সেই স্বপ্ন বা চেষ্টা বৃথা হতে পারে না। সেই চেষ্টা মিথ্যা হতে পারে না।

বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির নানা বিভক্তির মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে তাঁর পার্টি সিপিবি অনেক সংকটের মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছে। দেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষায় তাঁদের পার্টি সামনের কাতারে লড়াই করছে। শ্রমিকের পক্ষে অথবা কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে লড়ছে সিপিবি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা