kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপজেলা নির্বাচন ঘিরে গ্রামীণ জনপদ উৎসবমুখর

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



উপজেলা নির্বাচন ঘিরে গ্রামীণ জনপদ উৎসবমুখর

ছবি : জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলার মধ্যে ১৪টিতে নির্বাচন হবে। পরিষদের মেয়াদ থাকায় কর্ণফুলী উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন ঘিরে ১৪ উপজেলা বেশ সরগরম। উৎসবমুখর গাঁও-গেরাম। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে চালাচ্ছেন জোর তদবির। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : নূপুর দেব, চট্টগ্রাম

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলা এখন সরগরম। প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বত্র উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন কার্যালয় অফিস-আদালতসহ সবখানে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আর নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মুখরিত হয়ে ওঠেছে এখানকার গ্রামীণ জনপদ।

বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট-ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সরকার দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল এবং মহাজোটের শরিক দল ও সংগঠন বসেই নেই। তাদের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিভিন্নভাবে লবিং করছেন মনোনয়ন পেতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি দলের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতেই মরিয়া অনেকেই। নির্বাচন প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দল ও সংগঠনে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দল ও সংগঠনের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা বিভিন্ন নেতা প্রার্থী হতে চান। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের একেকটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে গড়ে ৪ থেকে ৬ জন করে প্রার্থী। এর মধ্যে গত রবিবার ও সোমবার চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান। কোনো কোনো উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক আবার কোনোটিতে ২-৩ জন আবার কোথাও ৫/৬ জন করে প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। যেখানে একক প্রার্থীর নাম পাঠানো হয় তা না মেনে সেখানে আবার কোনো কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেরা কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো থেকে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তালিকা দেয়নি। নেতাদের মতে, ভাইস চেয়ারম্যানের দুটি পদ আপাতত উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্র থেকে ওই দুই পদে নাম পাঠাতে বলা হলে পরে পাঠানো হবে। 

এদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকেও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রার্থী হতে কেন্দ্রে চেষ্টা করছেন। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে ১৪টিতে নির্বাচন হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ায় কর্ণফুলী উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না।

এদিকে অপর ১৪টি উপজেলায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এলাকায় ব্যানার, পোস্টার, প্ল্যাকার্ডসহ নানা প্রচারপত্রে নিজেদেরকে চেয়ারম্যান, ভাইসচেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তুলে ধরেছেন। অনেকেই এখন ঢাকায়। তাঁরা নিজেদের মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছে।

গত রবিবার নির্বাচন কমিশন পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রামে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচন উপজেলাগুলোতে হলেও বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারপত্র নগরেও শোভা পাচ্ছে।

আগামী ১০ মার্চ দেশের চারটি বিভাগের ৮৭টি উপজেলায় প্রথম দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৮ মার্চ ২য়, ২৪ মার্চ ৩য়, ৩১ মার্চ ৪র্থ এবং ১২ জুন ৫ম ধাপে এবারের উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে গত রবিবার নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেয়।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়েছে। এসব সভায় জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কোনো উপজেলায় ভোটাভুটি হয়নি। এর মধ্যে কয়েকটি উপজেলায় ভোটাভুটির মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের বিষয়টি ওঠে আসলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা ও জেলা নেতারা ভোটাভুটিতে যায়নি। তাই বেশ কিছু উপজেলায় একাধিক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিভক্তির কারণে কোনো কোনো উপজেলায় ৫/৬ জনের নামও কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম গত সোমবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উত্তর জেলার আওতাধীন ৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে কোনোটিতে আমাদের একক মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী রয়েছে। আবার কোনো কোনোটিতে একাধিক প্রার্থী রয়েছে চেয়ারম্যান পদে। আমাদের দলীয়প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দলের মনোনয়ন বোর্ড যে উপজেলায় যাকে মনোনয়ন দেবেন সবাই তার পক্ষে কাজ করবেন। এখানে বিরোধের কিছু নেই। ভাইস চেয়ারম্যান এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো আমরা উন্মুক্ত রেখেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালাম বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনেও অনেকে প্রার্থী হতে চেয়েছেন। দল থেকে তো প্রার্থী আর সবাইকে দিতে পারবে না। ওই সময় যে আসন থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সবাই দলীয় প্রার্থী, জোট-মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিজয়ী করে এনেছেন। তাই উপজেলাগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটিতে একাধিক দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দল থেকে যাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে এখানেও সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারেন। কিন্তু দল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়, ত্যাগী, যোগ্য, পরীক্ষিতদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ জেলার আওতাধীন ৮টি উপজেলার মধ্যে কর্ণফুলী ছাড়া অপর ৭টিতে নির্বাচন হবে। সব উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে দলের তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমাদের ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতেই চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী এবং ২টিতে একাধিক প্রার্থীর নাম আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। ভাইসচেয়ারম্যান এবং নারী সংরক্ষিত আসনে ভাইসচেয়ারম্যান পদে আমরা প্রার্থী কেন্দ্রে পাঠায়নি। এগুলো উন্মুক্ত থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে উপজেলাগুলো নিয়ে বর্ধিত সভা করেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় নেতারাও এসব সভায় ছিলেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে আমরা কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম পাঠিয়েছি। কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা