kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগ

চন্দ্রঘোনায় ৭২ নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চন্দ্রঘোনায় ৭২ নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

স্বরূপা আক্তারকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিট থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা থেকে তিনি ২৭ হাজার টাকায় দুটি গরুর বাছুর এবং দুই হাজার টাকায় হাঁস-মুরগি কেনেন।

বর্তমানে হাঁস-মুরগিসহ গরু মিলে ৭৪ হাজার টাকার সম্পদে এসে দাঁড়িয়েছে স্বরূপা আক্তারের পুঁজি। বছরখানেক আগে গবাদি পশু পালন, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিট স্বরূপাকে এই টাকা দেন নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে। একইভাবে এলাকার মিনু আক্তার রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া ৩০ হাজারসহ মোট ৫০ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন দুটি। বর্তমানে বাছুরসহ তাঁর গরু বিক্রি করা যাবে প্রায় ৯৫ হাজার টাকায়। সামনে গরু বাছুর দিলে এটির দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানালেন মিনু আক্তার।

তেমনি সুইনু মারমা ১০ হাজার টাকায় দুটি শূকর এবং ১০ হাজার টাকায় দুটি পাটনা ছাগল কিনেন। এর মধ্যে কয়েক মাস পর ২৫ হাজার টাকায় দুটি শূকর বিক্রি করে আরো তিনটি শূকরের বাছুর কিনে নিয়েছে ১৫ হাজার টাকায়।

বর্তমানে ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার টাকা রয়েছে। এ ছাড়া ছাগলসহ তাঁর পশুগুলোর মূল্য আছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

এঁদের মতো রেড ক্রিসেন্টের অর্থ সাহায্য নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন কাপ্তাইয়ের মিতিঙাছড়ি এলাকার রহিমা বেগম, ফুলু মং মারমা, সাজিয়া বেগম, মিনাক্ষী বড়ুয়া, ফাইছি মং মারমা, মং থোয়াই মারমা, মনি বেগম, কল্যাণী বেগম, ওসিনা বেগম, মালেকা বেগম, ঝর্না বেগমসহ ৭২ জন সুবিধাভোগী দরিদ্র নারী পরিবার। গত শুক্রবার কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙাছড়ি এলাকায় অবস্থিত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্কিম এলাকায় গেলে সংস্থাটির সহযোগিতায় স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা ৭২ নারী পরিবারের সুবিধাভোগীরা তাঁদের সফলতার নানা গল্প শোনান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিট কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙাছড়ি এলাকার হতদরিদ্র ৭২ নারী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়।

এসব পরিবারকে গবাদি পশু পালন, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে সংস্থাটি। একবছর আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৭২ হতদরিদ্র প্রতি নারীপ্রধান পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২১ লাখ টাকা অনুদান দেন। আর্থিক সহায়তা পাওয়া লোকজনকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে নিয়মিত তদারকি করা হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো সহায়তার টাকা ভিন্নখাতে খরচ না করে স্বাবলম্বী হতে মনোযোগী হয়।

যোগাযোগ করা হলে মিতিঙাছড়ি এলাকার দলনেতা কামরুন নুর জানান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি ইউনিটের আর্থিক সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে গরু, ছাগল, শূকর, হাঁস-মুরগি পালন, কলা বাগান, দোকান ও সেলাই মেশিন ক্রয় করে সব পরিবারই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। ৭২ জনকে দেওয়া ২১ লাখ টাকার পুঁজি বর্তমানে ৪০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে মূলধনে এসে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি জানান।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাঠকর্মী সেলিনা আক্তার জানান, সঠিক তদারকি থাকায় সুবিধাভোগী নারী পরিবারগুলো প্রাপ্ত অর্থ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছে।

বিশেষ করে এসব পরিবারের নারীদের মাঝে পরিবার ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা বাড়ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হাসেম জানান, ৩০ হাজার টাকা পেয়ে প্রথমে কিছু পরিবার ওই টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কঠোর তদারকির কারণে সুবিধাভোগীরা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কাজ করতে বাধ্য হয়। ফলে আজ সুবিধাভোগীদের উন্নতির কারণে গ্রামের সবাই খুশি।

অবশ্য একাজে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবীরও অবদান অনেক বেশি। তিনি কঠোর না থাকলে হয়ত তাঁর পক্ষে লোকজনকে সঠিক পথে পরিচালনা করা সম্ভব হতো না বলে ইউপি সদস্য হাসেম জানান।

রাঙামাটি জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হতদরিদ্র এসব নারী পরিবার স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে ওঠতে সক্ষম হলে এটাই হবে রেড ক্রিসেন্টের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তাঁদের দেখাদেখিতে অন্য এলাকার সুবিধাভোগীরাও নিজেদের স্বাবলম্বী করতে উৎসাহী হবে।’ এদেশ থেকে ক্রমান্বয়ে এভাবেই দারিদ্রতা দূর হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা