kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফটিকছড়িতে ফরমালিনমুক্ত মাল্টা বিক্রি ও প্রদর্শনী

আবু এখলাছ ঝিনুক, ফটিকছড়ি, (চট্টগ্রাম)    

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফটিকছড়িতে ফরমালিনমুক্ত মাল্টা বিক্রি ও প্রদর্শনী

ফটিকছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের মুহাম্মদ ইউনুছ মাল্টা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের গজারিয়া খালের পাশে নিচিন্তা গ্রামে ‘ইউনুছ এগ্রো ফার্ম’ এর অবস্থান। বনকর্মকর্তা ইউনুছ ২০১৩ সালে প্রথম শুরু করেন মাল্টা চাষ।

বর্তমানে ৮ একর জায়গাজুড়ে মাল্টা বাগানে গাছ রয়েছে দুই হাজার। এর মধ্যে ফলন দিচ্ছে ৮০০ গাছ।

বাকি গাছগুলোতে আগামী বছর ফলন আসবে বলে জানান ইউনুছ। সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিক্রি শুরু হয়ে এ বছর প্রায় ৩৫ টন মাল্টা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। সবুজ ও সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ইউনুছ এগ্রোর মাল্টার চাহিদাও প্রচুর।

ইউনুছ জানান, গেল সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু হয়েছে তাঁর বাগানে। এ বাগানে উৎপাদিত ১০০% ফরমালিনমুক্ত মাল্টা বিক্রি ও প্রদর্শনীর জন্য ফার্মের সামনে ঘর তৈরি করেছেন তিনি। এখানে উৎপাদিত মাল্টা ক্রেতারা সচক্ষে দেখে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা দরে কিনেন। পাইকারি কোনো ফল ব্যবসায়ীর কাছে মাল্টা বিক্রি করেন না তিনি।

জানতে চাইলে ইউনুছ বলেন, ‘আমার বাগানের মাল্টার যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুণ্ন রাখতেই এই পরিকল্পনা। পাইকারি বাজারে যদি মাল্টা বিক্রি করি তাহালে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিনযুক্ত মাল্টার সাথে মিশিয়ে বিক্রি করতে পারে।

ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন এবং ন্যায্য মূল্যে ফরমালিনমুক্ত দেশীয় উৎপাদিত মাল্টা পায় সে জন্য আমার এ উদ্যোগ।’

জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় শ কেজি মাল্টা বিক্রি হয়। মাল্টার পাশাপাশি এখানে উন্নত জাতের কমলা, আম, লেবু, কলা ও পেঁপের গাছ রয়েছে। বাগানের উৎপাদন দেখে এ অঞ্চলে প্রায় ৫০টি মাল্টা বাগান গড়ে ওঠেছে। তাঁরা বেশির ভাগই ইউনুছের বাগানের চারা লাগিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮-১০টি বাগানে এ বছর ফলনও এসেছে।

তাঁর মতে, প্রতিবছর বিদেশ থেকে এ মাল্টা আমদানি করার ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এই বিদেশ নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তাহলে দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। বিদেশ নির্ভরতা কমবে। দেশের অর্থ দেশেই থাকবে। সর্বোপরি বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, ‘ফরেষ্ট কর্মকর্তা ইউনুছ ফটিকছড়ি তথা চট্টগ্রামের গর্ব।

তাঁর মাল্টা বিপ্লবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তাঁকে আমরা উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কৃত করেছি। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের জন্য কয়েকবার তাঁর নাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। কয়েকদিন আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁর মাল্টাবাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা