kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কক্সবাজার-১

বিএনপির ‘দুর্গে’ নৌকার ‘গণজোয়ার’

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিএনপির ‘দুর্গে’ নৌকার ‘গণজোয়ার’

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। দলমত নির্বিশেষে এবার এই আসনে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে একযোগে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ কারণে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী জাফর আলম যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই মানুষের স্রোত দেখা যাচ্ছে। এমনকি বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্যতম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নিজ উপজেলা পেকুয়াতে নৌকার পক্ষে জনসভায় মানুষের ঢল নামছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী যোগ দেন আওয়ামী লীগে। যোগ দেওয়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারাও রয়েছেন।

চকরিয়া-পেকুয়ার রাজনীতি সচেতন মানুষ মনে করছে, জাফর আলমকে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বেশ খুশি। কারণ জাফর আলম গত একযুগ ধরে রাজনীতি করে আসছেন সাধারণের কাতারে থেকে। যেকোনো সমস্যায় রাত-বিরাতে ছুটে গেছেন তিনি সাধারণের কাছে। এ জন্য চকরিয়া ও পেকুয়ার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয় জাফর। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবাইকে তাক লাগিয়ে বিজয় অর্জন করতে পারেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিনুর রশীদ দুলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী জাফর আলম নির্বাচনী মাঠের জন্য একজন যোগ্য মানুষ। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের সময় বেশ কয়েকবছর জেলও খেটেছেন তিনি। পুলিশি রিমাণ্ডের নামে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক ও শারীরিকভাবে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। এর পরও সকল ধরনের প্রতিহিংসা,

জেল-জুলুম ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।’

আমিনুর রশীদ দুলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন করার সময় সারাদেশের মধ্যে চকরিয়ায়ও তাণ্ডবলীলা চালানোর চেষ্টা করেছিল বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু জাফর আলমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করেন।’

চকরিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল হাকিম দুলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষের হৃদয়ে অনেক আগেই ঠাঁই করে নিয়েছেন জাফর আলম। কারণ জাফর আলম একজন দলের নেতা হলেও তাঁর কাছে দলমত নির্বিশেষে সকলেরই স্থান ছিল। তিনি যে দলেরই হোক তাঁর কথা মন দিয়ে শুনেছেন। যতটুকু পেরেছেন সাধ্যের মধ্যে থেকে সহায়তা করেছেন। তাই আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট থেকে তাঁকে নৌকার মাঝি করা হলেও আগামী নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে বিপুল ভোট দিয়ে তাঁকে এমপি নির্বাচিত করবেন চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ।’

মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ায় এবার সুযোগ এসেছে দীর্ঘ ৪৫ বছরের পরাজয়ের গ্লানি মোচনে। সেজন্য এবার নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে এমপি উপহার দেওয়ার জন্য বৃহত্তর চকরিয়ার মানুষ উম্মুখ হয়ে রয়েছেন। এবার আমরা তেমন একজন দক্ষ প্রার্থীও পেয়েছি। তাই চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ এবার নৌকার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে আমি মনে করি।’

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ‘আমি পর পর তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। কিন্তু একবারের জন্যও আমরা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি পাইনি। যার কারণে যথাযথ উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল চকরিয়ার মানুষ। তাই এবার আর চকরিয়ার মানুষ সেই ভুল না করে উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দেবে। সেজন্য আমরাও মাঠে কাজ করছি। যেখানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছি, সেখানে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘চকরিয়ার মানুষ এখন অনেক সচেতন। বার বার চকরিয়ার মানুষকে বোকা বানিয়ে বিএনপির সালাহউদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করেছেন চকরিয়ায়। আবার যখন নির্বাচন এসেছে তখন বিএনপির প্রার্থী কান্না করে চকরিয়ার মানুষের কাছ থেকে ভোট ভিক্ষা চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই, কান্না করলেও কোনো কাজ হবে না। এবার চকরিয়া ও পেকুয়ায় নৌকার পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘পেকুয়া উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির সালাহউদ্দিন। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী এলাকায় ছিলেন না। এই সময়ের মধ্যে সুখে-দুঃখে একমাত্র কাছে পেয়েছেন জনতার জাফর ভাইকে। আর জাফর ভাইকে কক্সবাজার-১ আসনে নৌকার মাঝি করায় পেকুয়ার ভোটাররাও আনন্দে উদ্বেলিত। তাই প্রতিদিন নির্বাচনী জনসভায় একের পর এক বিএনপির নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করছেন। এসব কিছু একমাত্র সম্ভব হয়েছে আমাদের নেতা জাফর আলমের কারণে।’

আবুল কাশেম আরো বলেন, ‘একসময় বিএনপির দুর্গ হলেও পেকুয়া উপজেলায় সেই অবস্থা এখন আর নেই। যেখানে আমরা নৌকা প্রতীকের জনসভা করছি, সেখানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ উপচে পড়ছে। এনিয়ে বিএনপির ভেতরেও তুষের আগুন জ্বলছে।’

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার-১ আসন ১৯৯১ সালে জামায়াতের এনামুল হক মঞ্জু এবং ’৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দখলে ছিল বিএনপির। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পর পর দুবার সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ২০০৮ সালে তাঁর স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা