kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেনীর ভোটচিত্র

বাইরে উৎসব ভেতরে শঙ্কা

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাইরে উৎসব ভেতরে শঙ্কা

ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভার পর হাস্যোজ্জ্বল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের নৌকার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ধানের শীষের প্রার্থী ভিপি জয়নালের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এমন সুন্দর ছবিও কর্মী-সমর্থকদের মন থেকে শঙ্কা দূর করতে পারছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোটের বাকি আর মাত্র তিনদিন। একদিকে মহাজোট শিবিরে চলছে উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ। তাঁরা কোমর বেঁধে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। অপরদিকে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের এক বড় অংশ মামলা, হামলাসহ নানা কারণে অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। যে কয়েকজন বাইরে আছেন-তাঁরাও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।

নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, কয়েকজন প্রার্থী ও বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর পরই মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান মহাজোট প্রার্থীরা। বিশেষ করে ফেনী-২ আসনের নৌকার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষে ইতোমধ্যে ১০টি এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব সমাবেশে এসে প্রচার চালান তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। গোটা সংসদীয় আসনের আনাচে-কানাচে রয়েছে তাঁর নির্বাচনী ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন। কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

একইভাবে ফেনী-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী শিরিন আখতার সেখানে প্রচারণা-গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম আব্দুল্লাহ ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে কিছুদিন মাঠে থাকলেও সম্প্রতি তিনি সরে দাঁড়ানোয় শিরিনের পথে আর কোনো বাধা রইল না।

ফেনী-৩ আসনেও নিয়মিতভাবে প্রচারণা, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মহাজোট প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এখানেও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি তিনি সরে দাঁড়ানোয় মাসুদ চৌধুরীর নির্বাচনের পথ আরো মসৃণ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

তবে সরকারি বা মহাজোট শিবিরে উৎসব-উচ্ছ্বাস আর ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও বিরোধী শিবিরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিএনপির প্রার্থীদের তেমন কোনো ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন কোথাও চোখে পড়ে না। তাঁদের গণসংযোগও চলছে খুবই সীমিত আকারে।

ফেনী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুন্সী রফিকুল আলম মজনু জানান, ছাগলনাইয়ায় তাঁর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে মহাজোটের কর্মীরা। ফুলগাজীতেও তাঁর প্রচার মাইকে হামলা এবং পরশুরামে কয়েকজন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ওরফে ভিপি জয়নালও গত অর্ধশত বছরে এমন একতরফা নির্বাচন আর দেখেননি বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেকটা অবরুদ্ধের মতো আছি। ঠিকমতো গণসংযোগ করতে পারছি না। সরকারি দলের ক্যাডাররা আমার বাড়ির চারপাশে অবস্থান নিয়ে আমার এখানে আসা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এসব কারণে অনেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছি না।’ তিনি তাঁর প্রচার মাইক ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরেরও অভিযোগ করেন।

ফেনী-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আকবর হোসেন বলেন, ‘মামলা-হামলার ভয়ে নেতাকর্মীরা কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন না।’

গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সোনাগাজীতে মহাজোটের কর্মীদের হামলায় তিনিসহ ১২ জন কর্মী আহত হন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া দাগনভূঁঞা-সোনাগাজীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর প্রচার গাড়ি-মাইক ভাঙচুর ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ২২ ডিসেম্বর শনিবার ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সম্মেলন কক্ষে জেলার তিনটি আসনের ২৫ প্রার্থীকে নিয়ে

আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলার বিভিন্ন বিভাগ ও বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা

অংশ নেন।

সভায় বিরোধী জোটের প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় ‘গায়েবি’ মামলা, হামলা, ভাঙচুর, ভীতি প্রদর্শনের বর্ণনা দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলার সর্বত্র সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে।’

সভায় পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। শুধু নিয়মিত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।’ তবু সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দিতে বিএনপির প্রার্থীদের অনুরোধ করেন তিনি।

ফেনী-২ আসনের ‘নৌকার’ প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বিরোধী জোটের প্রার্থীদের অভিযোগগুলো নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘কোথাও কাউকে হামলা করা হয়নি বা হুমকিও দেওয়া  হচ্ছে না।’ বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। 

ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেলার তিনটি আসনে আমাদের নেতাকর্মীদের এক বিরাট অংশ বিভিন্ন গায়েবি মামলায় জেলে রয়েছেন। অনেকে মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর অল্প কয়েকজন যাওবা ভোটের মাঠে রয়েছেন-তাঁদেরও নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় কেমন নির্বাচন হবে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা