kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

চট্টগ্রামে ভোটযুদ্ধে ১১৫ প্রার্থী

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনেও একই সময়ে ভোটগ্রহণ করা হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার রিটার্নিং অফিসার হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ এবং সিটি করপোরেশনসংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ১০ আসনের দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১১৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬৫ জন। পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১২ হাজার ৭৫ জন এবং নারী ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৯০। ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৮৯৯টি। ১০ হাজার ৮৮৭টি ভোটকক্ষ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৫ মিনিটে



চট্টগ্রামে ভোটযুদ্ধে ১১৫ প্রার্থী

ছবি : সৌমিত্র চক্রবর্তী ও দিদারুল আলম

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই

এ আসনে এবার ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি গত দুইবারের টানা সংসদ সদস্য। এই আসনে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নূরুল আমিন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছেন। আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ শামসুদ্দিন (হাতপাখা), মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল (পাঞ্জা), গণফোরামের নূর উদ্দিন আহমদ (উদীয়মান সূর্য) ও ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান (চেয়ার)।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬ ভোট। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪২ জন। ১০৪ ভোটকেন্দ্রের ৬২৯টি ভোট কক্ষে তারা ভোট প্রদান করবেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মিরসরাই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এম ডি এম কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে ১০ হাজার ৬৭৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি

মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৭৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬১০ জন। এই ভোটাররা ১৩৬টি কেন্দ্রের ৬৯২টি ভোট কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফটিকছড়ি আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন জোটভুক্ত তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগেরই ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম। যদিও ২-২ ডিসেম্বর কেন্দ্রের নির্দেশে নৌকা প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে এরপরেও তাঁর প্রতীক ‘আপেল’ ব্যালট পেপারে ছাপা থাকবে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম রেজা (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আতীক (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্টের মীর মো. ফেরদৌস আলম (চেয়ার) ও ইসলামী ফ্রন্টের শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী (মোমবাতি)।

১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. হাসান মাহমুদকে ১ লাখ ১২ হাজার ৯১৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে দণ্ডিত বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে ৩৭ হাজার ৬৭ ভোটে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ

চট্টগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরবেষ্টিত দ্বীপের এ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৫ জন। বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মনসুরুল আলম (হাতপাখা), এনপিপির মুক্তাদের আজাদ খান (আম) এবং কৃষক জনতা লীগের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন হায়দার (গামছা)।

চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে কম ভোটার সন্দ্বীপে। ২ লাখ ২ হাজার ৬৩৫ ভোটারের আসনটিতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার বেশি। ১ লাখ ২ হাজার ১৫৫ নারী ভোটারের বিপরীতে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮৫ জন। ৭৯টি ভোট কেন্দ্রের ৩৬৫টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভোট প্রদানের লক্ষ্যে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে লাঙল প্রতীকের এম এ সালামকে ১ লাখ ৮ হাজার ২৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা। তবে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশার কাছে ২৮ হাজার ৮৫৩ ভোটে পরাজিত হন মাহফুজুর রহমান। অবশ্য সেই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নিয়ে আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২২৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৮ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৪৫০ জন। ১০৮টি কেন্দ্র ও ৭৪৭টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভোটগ্রহণের জন্য।

এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। আর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ইসহাক কাদের চৌধুরী। এ ছাড়া এই আসনের লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টির দিদারুল কবির, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আশরাফ হোসেন (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্টের মোজাম্মেল হোসেন (চেয়ার) ও ইসলামী আন্দোলনের সামছুল আলম হাসেম (হাতপাখা)।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদের প্রার্থী আ ফ ম মফিজুর রহমানকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের আবুল কাশেম মাস্টার বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীকে ২৩ হাজার ৩৬৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী

চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে বেশি ১০ জন প্রার্থী এই আসনে। নৌকা প্রতীক না থাকলেও লাঙল প্রতীক নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঐক্যফ্রন্টের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক)। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ রফিক (হাতপাখা), ইসলামী ঐক্যজোটের মঈন উদ্দিন রুহী (মিনার), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছির হায়দার করিম (সিংহ), ইসলামিক ফ্রন্টের সৈয়দ হাফেজ আহমদ (চেয়ার), জমিয়তুল ওলামার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (খেজুরগাছ), খেলাফত মজলিশের

শিহাবুদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি), খেলাফত আন্দোলনের মীর ইদ্রিস (বটগাছ) ও ইসলামী ফ্রন্টের নঈমুল ইসলাম (মোমবাতি)। হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৭৬ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ১৪৮ জন। ১৪০টি কেন্দ্রের ৭৪৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ম৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ওয়াহিদুল আলমকে ২৫ হাজার ১৯৩ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান

এই আসনে মাত্র ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। গত দুই বারের টানা সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সাথে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে জসীম উদ্দিন সিকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই আসনে অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আব্দুল আলী (হাতপাখা)

২ লাখ ৭০ হাজার ৭৬০ ভোটারের আসনটিতে নারী ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৫১ এবং ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩ পুরুষ ভোটারের জন্য ৮৪ কেন্দ্র এবং ৪৭১টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফজলে করিম ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর ৯ম সংসদ নির্বাচনে ৮৬ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস কাদের চৌধুরীকে ৭ হাজার ৮৯৫ ভোটে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরণদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৯জন। মোট ৯৬টি ভোটকেন্দ্রের ৪৭১টি ভোটকক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের মন জয় করতে মোট ৬ জন প্রার্থী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গত দুবারের টানা সংসদ সদস্য ড. হাসান মাহমুদ।

এ ছাড়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এলডিপি নেতা মো. নুরুল আলম। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন; ইসলামী ফ্রন্টের আবু নওশাদ (মোমবাতি), জেএসডির মাহাবুবুর রহমান (তারা), এনপিপির মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (আম) ও ইসলামী আন্দোলনের নেয়ামত উল্লাহ (হাতপাখা)।

১০ম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ড. হাসান মাহমুদ ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২৯ হাজার ২৬৭ ভোটে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালী

বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরণদ্বীপ ইউনিয়ন ব্যতীত বাকী ইউনিয়ন ও চসিকের ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৯২২ জন। এই আসনের ১৭০টি ভোটকেন্দ্রের ৮৫০টি ভোটকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসনটিতে মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ জাসদের গত দুইবারের টানা সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (সিংহ) ও হাসান মাহমুদ চৌধুরী (আপেল), ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত (কুঁড়েঘর), ইসলামী আন্দোলনের মো. ফরিদ খান (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্টের সেতাব উদ্দিন মো. আব্দুস সামাদ (মোমবাতি), বিএনএফের এস এম ইকবাল হোসেন (টেলিভিশন) ও কমিউনিস্ট পার্টির মো. সেহাব উদ্দিন (কাস্তে)।

১০ম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মঈন উদ্দিন খান বাদল ৯ম সংসদ নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে ১৭ হাজার ১৮২ ভোটে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটের কারণে দেশের আলোচিত ৬টি আসনের মধ্যে এটি একটি। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন।

এর মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিএনপির কারাবন্দী নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন। এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ ওয়াহিদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলনের শেখ আমজাদ হোসেন (হাতপাখা), কমিউনিস্ট পার্টির মৃণাল চৌধুরী (কাস্তে), খেলাফত আন্দোলনের মৌলভি রসিদুল হক বিএসসি (বটগাছ), ইসলামী ফ্রন্টের আবু আজম (মোমবাতি) ও জাতীয় পার্টি-জেপির মো. মোরশেদ সিদ্দিকী (বাইসাইকেল)।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ২২৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২০৬ জন। ১৪৪টি ভোটকেন্দ্রের ৯২০টি ভোটকক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

১০ম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলু ওয়ার্কার্স পার্টির আবু হানিফকে ৭৬ হাজার ১৮০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ৯ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম বিএসসি ৩০ হাজার ৯২৭ ভোটে বিএনপির সামশুল ইসলামকে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-১০ হালিশহর-পাহাড়তলী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ২৫১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৩ জন।

এই আসনের ১১৭টি ভোটকেন্দ্রের ৮৪৮টি ভোটকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই আসনের মূলতঃ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. আফসারুল আমীনের মধ্যে। এ ছাড়াও জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিনা খাতুন সিংহ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), এনপিপির কাজী ইউসুফ আলী (আম), বিএনএফের আতিউল্লাহ ওয়াসীম (টেলিভিশন), ওয়ার্কার্স পার্টির সৈয়দ মো. হাসান মারুফ (কোদাল) ও বাসদের মহিন উদ্দিন (মই)। এই আসনে গত দুই বারের সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমীন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতলেও ৯ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমানকে পরাজিত করেছিলেন ৯ হাজার ২৯১ ভোটের ব্যবধানে।

চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা

অর্থনৈতিকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপর্ণ আসনটিতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭২ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৭ জন।

১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের ৯১৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দুটি ইপিজেড থাকায় বেশির ভাগ ভাসমান ভোটারের এই আসনে মোট ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়ছেন ধানের শীষ নিয়ে। আর গত দুইবারের সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী নেতা এম এ লতিফ নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মো. লোকমান সওদাগর (হাতপাখা), খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রসিদুল হক বিএসসি (বটগাছ), ওয়ার্কার্স পার্টির অপু দাশগুপ্ত (কোদাল), ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি) এবং ইসলামিক ফ্রন্টের আবুল বাশার মো. জয়নাল আবেদীন (চেয়ার)।

১০ম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিনকে ৬৩ হাজার ৪ ভোটে পরাজিত করা এম এ লতিফ ৯ম সংসদে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ২২ হাজার ৬৪৫ ভোটে পরাজিত করেন।

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া

এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক এনামের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের দেলোয়ার হোসেন সাকী (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্টের মঈন উদ্দিন চৌধুরী (চেয়ার),

ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি), এএনএফের দীপক কুমার পালিত (টেলিভিশন), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফা সরকার (লাঙল), বাসদের সাইফুদ্দীন মো. ইউনুচ (মই) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তালেব হেলালী (সিংহ)।

এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫১ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি এবং ভোটকক্ষ ৬৭৯টি।

চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী

আনোয়ারা ও নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৬৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৭১৭ জন। এ জন্য ১০৬টি কেন্দ্র ও ৬৫৬টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে লড়ছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তাঁর সঙ্গে লড়াই হবে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে।

এ ছাড়া ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলনের ইরফানুল আলম খান (হাতপাখা), গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক (উদীয়মান সূর্য), বিএনএফের নারায়ণ রক্ষিত (টেলিভিশন), খেলাফত আন্দোলনের মৌলভি রসিদুল হক (বটগাছ) ও ইসলামিক ফ্রন্টের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (চেয়ার) ভোট লড়াইয়ে আছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার একাংশ

এই আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। ঐক্যফ্রন্টের নেতা এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ছাতা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন এই আসনে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়া এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন; ইসলামী

আন্দোলনের দেলোয়ার হোসেন সাকী (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্টের সিহাব উদ্দিন মো. আব্দুস সামাদ (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্টের মাওলানা জানে আলম নিজামী (চেয়ার), ন্যাপের আলী নেওয়াজ খান (কুঁড়েঘর), কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল নবী (কাস্তে), তরিকত ফেডারেশনের মোহাম্মদ আলী ফারুকী (ফুলের মালা), জাতীয় পার্টির অলিউল্লাহ চৌধুরী মাসুদ (লাঙল)। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৪০২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৪১জন। ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫৩০টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার একাংশ

এই আসনের ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৭ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৬৭ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ১৭০জন। ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের ৭৭২টি ভোটকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। তাঁর সঙ্গে জোর লড়াই হবে আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের নূরুল আলম (হাতপাখা), গণফোরামের আব্দুল মোমেন চৌধুরী (উদীয়মান সূর্য) ও এনপিপির ফজলুল হক (আম)।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী

দেশের একমাত্র এই আসনেই নির্বাচন হবে চতুর্মুখী। নৌকা প্রতীকের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে একই জোটের জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী লাঙল প্রতীকে এবং ধানের শীষ প্রতীকের জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে এই জোটের জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আপেল প্রতীক নিয়ে। এই চারজনই হেভিওয়েট প্রার্থী।

এ ছাড়া ভোট লড়াইয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ফরিদ আহমেদ (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্টের আহমদ মহিউল আলম চৌধুরী (চেয়ার), ন্যাপের আশীষ কুমার শীল (কুঁড়েঘর) ও ইসলামী ফ্রন্টের মনিরুল ইসলাম (মোমবাতি)।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ১২৩জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩৭জন। ১১০ ভোটকেন্দ্রের ৫৯০টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য