kalerkantho

রবিবার। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৬ ডিসেম্বর ২০২০। ২০ রবিউস সানি ১৪৪২

চবি শিক্ষার্থীদের তৈরি অ্যাপ

অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট : বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছুদের সাহায্য করবে যেভাবে

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট : বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছুদের সাহায্য করবে যেভাবে

অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাপস টিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থী যে শুধু পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত ও চিন্তার মধ্যে থাকে তা নয়।  কবে ভর্তি ফরম পূরণের শেষ সময়, টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এবং কবে হবে ভর্তি পরীক্ষা এসব কথা সবসময় মাথায় ঘুরপাক খায়। এর ওপর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলে, কোন সিলেবাসে কী পড়তে হবে, ভর্তির যোগ্যতা কী, কীভাবে দূরের ক্যামপাসে যাবে তা নিয়েও চলে শত দ্বিধা আর বিভ্রান্তি।

আর ছাত্র-ছাত্রীদের এসব সমস্যা দূর করতে ভর্তিযোদ্ধাদের অ্যাডমিশনের সময় সাহায্য করতে তৈরি করা হয়েছে অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট নামে একটি বিশেষ অ্যাপস। তিন মাসের নিরলস চেষ্টার পর নির্মাতারা অ্যাপসটি এখন প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করেছে। ইতোমধ্যেই অ্যাপসটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তীচ্ছুদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

অ্যাপটি তৈরি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সায়েন্স শপ বিডি নামক অনলাইন শপের প্রতিষ্ঠাতা ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অ্যাপসটির কাজ শুরু হয়। অ্যাপসটির সার্ভার ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজাইনিংয়ে কাজ

করেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জাওয়াদ খান, মাহবুবুর রহমান ও শোভন মাহমুদ। ডাটা এনালাইসিসে ছিলেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ, ফাহাদ ও মারুফ।  ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন অধীনে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার জন্য এটি মনোনীত হয়েছে।

নির্মাতারা জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই অ্যাপসটি আশা করি লাখো শিক্ষার্থীর ভরসা হিসেবে জায়গা পাবে। অ্যাপসটি ব্যবহারের জন্য প্রথমেই ফোন নাম্বার ও মেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তার পর অ্যাপসের বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলো দেখা যাবে।

 

অ্যাপটিতে যা যা আছে

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই অ্যাপটি পাঁচ ভাগে ভাগ করেছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি ও ভেটেরিনারি  বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজ। যে শিক্ষার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেখানে ক্লিক করলেই জেনে যাবেন পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সার্কুলার দেওয়া আছে অ্যাপটিতে। সার্কুলার বোঝার সুবিধার্থে সহজ ফরম্যাট ও প্রতিটা সার্কুলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই এখন বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট  ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্কুলার খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করতে হবে না। এক ফোন দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।

 

অ্যাডমিশন কাউন্টডাউন

এই ফিচারটিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন কখন শুরু ও শেষ তা একসঙ্গে তালিকা আকারে দেওয়া আছে। পাশাপাশি আছে অ্যাপ্লাই বাটনে ক্লিক করে কোনো ঝামেলা ছাড়া আবেদন করার সুবিধা। পছন্দমতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রিয় তালিকা করে রাখলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক তথ্যের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জানা যাবে।

 

অ্যাপটি ‘লগ ইন’ করতে যেসব তথ্য লাগবে

এসএসসি, এইচএসসি রোল, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, বোর্ড, ও ছবি দিয়ে এক ক্লিকের মাধ্যমেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে। প্রতিবার পছন্দের বিশ্ববিদ্যলয়ে আবেদন করার সময় একই তথ্য বারবার দিতে হবে না।

শুধু কোন ইউনিটে পরীক্ষা দেবে, কোটা আছে কিনা তা সিলেক্ট করেই যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। বিকাশ অথবা রকেটের মাধ্যমে অ্যাডমিশন ফরমের ফি প্রদান করার সুযোগ আছে। তবে কেউ এই সুবিধা নিতে না চাইলে শুধু ফোন ও ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে অ্যাপটির বাকি সুবিধাগুলো নিতে পারবেন। এছাড়া, যখন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র, আসন বিন্যাস, রেজাল্ট পাবলিশ হবে তা সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে।

 

যাতায়াত ও বুকিং করার সুবিধা

পরীক্ষার সময় অচেনা শহরে যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যা থাকলেও এই অ্যাপ দেবে ‘ম্যাপিং’ সুবিধা। এতে পরীক্ষার্থী যেকোনো জায়গা থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কারো সাহায্য ছাড়াই চলে যেতে পারবে। আর রয়েছে বাস, ট্রেন টিকিট ও এমনকি হোটেল বুকিং করার সুবিধাও।

এ বিষয়ে অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘টিমের প্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক ব্যবহারকারী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আমরা স্বপ্ন দেখি, এই অ্যাপস একদিন লাখো ভর্তি প্রত্যাশীর ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠবে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের অভাবে উচ্চশিক্ষা হতে বঞ্চিত হবে না দেশের এক শিক্ষার্থীও।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু ভলান্টিয়ার কাজ করছে অ্যাপটিতে যেন সব চেয়ে দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়। কারণ, শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করে সহায়ক গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট  নামের এই অ্যাপটি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা