kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

মুক্তিযোদ্ধা পবন মণ্ডল

কালের কণ্ঠের জন্যই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারছিলাম

জাহাঙ্গীর হোসেন   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কালের কণ্ঠের জন্যই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারছিলাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা পবন মণ্ডল। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরাসরি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন রাজবাড়ীর চরনারায়ণপুর গ্রামের পবন মণ্ডল। তাঁকে নিয়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘চায়ের কেটলিতে আটকে গেছে পবনের জীবন’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এর কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ডাক আসে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবন মণ্ডলের হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন। দারিদ্র্য আর অবহেলায় প্রায় চাপা পড়ে গিয়েছিল যুদ্ধজয়ের গৌরবময় অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাওয়া এবং তাঁর হাত থেকে সম্মানী পাওয়ার পর নিজেকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করলেন মুক্তিযোদ্ধা পবন মণ্ডল।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দর ঘাটসংলগ্ন মাদরাসা প্রাঙ্গণে কথা হয় পবন মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি কালের কণ্ঠের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ এ পত্রিকায় আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তাঁর দপ্তরে ডেকে নিয়ে যান এবং তিনি আমাকে দুই লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। আমি কালের কণ্ঠের কারণেই সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সম্মানীর টাকা পবন ‘খেয়ে নষ্ট’ করেননি। নিজের নামে ৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। তবে ওই জমিতে এখনো ঘর তৈরি করার সামর্থ্য হয়নি। ‘শুনেছিলাম সরকারিভাবে দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন সেই আশায় আছি। যদি ঘর তৈরি করে দেয়, তাহলে স্ত্রী-সন্তান ও নাতি-পুতি নিয়ে জীবনের শেষ সময়টা কাটাব।’

তাঁর তিন ছেলে; দুজন ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে আর বড় ছেলে বাড়িতে থেকে অটোরিকশা চালায়। অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন বিছানায় থেকেছেন পবন। এখন খানিকটা সুস্থ। সংসারের ঘানি টানা তাঁর বন্ধ হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ভাতাই এখন তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। রিকশাভ্যান চালানোর শক্তি নেই এখন। রাজবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের নিচে টিনের ছাপরা তুলে চা দোকান চালাতেন। সংসদ কর্তৃপক্ষ সেখানে কমপ্লেক্স মার্কেট বর্ধিত করেছে, তাই দোকান বন্ধ। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আড়াই লাখ টাকা দিলে পবন মণ্ডল তাঁর দোকানের পজেশন বুঝে পাবেন।

লেখক : রাজবাড়ী প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা