kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

চাওয়া-পাওয়া নিয়ে হা-হুতাশ নেই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের

মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকাটা দেখে যেতে চান

নিয়ামুল কবীর সজল   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকাটা দেখে যেতে চান

মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান ছবি : কালের কণ্ঠ

কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের জীবনের পড়ন্ত বেলায় অবসর সময়টা কাটে ময়মনসিংহ শহরের বলাশপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধাপল্লীরই অন্য মুক্তিযোদ্ধা কিংবা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে। মুক্তিযোদ্ধাপল্লীই এখন তাঁর মূল ঠিকানা। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে এখানে নিরিবিলি বসবাস করেন। এক ছেলে ও তিন মেয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন আর চাকরিবাকরি নিয়েও ভাবেন শাহজাহান।

জীবনের শেষ বেলায় এসে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে খুব বেশি হা-হুতাশ নেই শাহজাহানের। কষ্ট করে চলেন। আর্থিক কষ্টটা তাঁর নিত্যসঙ্গী। বয়সজনিত কিছু রোগবালাইও শরীরে বাসা বেঁধেছে। তবু তিনি হতাশ নন। নিজেকে সুখীই মনে করেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পেরেছেন, এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি। এর পরও জানতে চাওয়া হয়েছিল এই বয়সে এই সময়ে এসে তাঁর মনের ইচ্ছাটা কী।

মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বলেন, তিনি আশা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকাটা হবে। ভুয়ারা বাদ পড়বে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে বিভ্রান্তি, তার অবসান ঘটবে। এটাই তাঁর বড় চাওয়া ছিল। কিন্তু সেটি পূরণ হয়নি। শাহজাহান বলেন, ‘আমরা যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, আমরা চাই একটা নির্ভুল তালিকা হোক। জীবনে সেই তালিকা দেখে যেতে পারলে খুশি হতাম।’ ভুয়াদের কারো কারো দাপট দেখে তিনি কষ্ট পান। ভুয়ারা অনেক সময় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরও বেকায়দায় ফেলতে চেষ্টা করে।

এর বাইরে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে শাহজাহান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করছে। বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান মাস্টার্স করেছে কিছুদিন আগে। বড় মেয়ে শাহনাজ বেগম রোজী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত বছর মাস্টার্স করেছে। আরেক মেয়ে শাহনূর বেগম নিশাত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পড়াশোনা করছে ফাইনাল ইয়ারে। আরেক মেয়ে মানজীদা বেগম এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।’ শাহজাহান বলেন, সবাই ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করে চাকরিবাকরি করলে তিনি নিশ্চিন্ত হতেন। এখন তাঁর জাগতিক সব ভাবনা ছেলে-মেয়েদের ঘিরেই।

লেখক : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা