kalerkantho

শনিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৭। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১ সফর ১৪৪২

লাল মুক্তিবার্তায় নাম উঠলেই খুশি হবেন মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস

কে এম সবুজ   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লাল মুক্তিবার্তায় নাম উঠলেই খুশি হবেন মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আহম্মেদ ছবি : কালের কণ্ঠ

মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের একজন বীর সেনানী ইউনুস আহম্মেদ। পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া, আবার কাউকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি। ঘরের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র মজুদ রাখার দায়িত্বও পালন করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। এমনকি ভিখারির বেশে শহর ঘুরে পাকিস্তানি বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে চিরকুট পৌঁছানোর কাজেও পটু ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বড় ভাই আলতাফ হোসেন শহীদ হয়েছেন। ভাই হারানোর বেদনা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে। মুক্তিবার্তায় নাম থাকলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে লাল মুক্তিবার্তায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইউনুস আহম্মেদের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গল ইউনিয়নের ফয়রা গ্রামে। মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আহম্মেদকে নিয়ে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সে শুধু তাঁর একটাই প্রার্থনা, তাঁর নাম যেন লাল মুক্তিবার্তায় দেখে যেতে পারেন। ইউনুস আহম্মেদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তিনি। অর্থের অভাবে ভালো কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে পারছেন না। ঘরের ভেতরে বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে। মাঝেমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এসে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বসেন।

ইউনুস আহম্মেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যখন তালিকা প্রণয়ন করা হলো, তখনো আমার নাম ছিল। পরে যে কয়বারই তালিকা করা হয়েছে, গেজেট হয়েছে, সব জায়গায়ই আমার নাম রয়েছে। মুক্তিবার্তায়ও (০৬০২০২০২৮২) আমার নাম রয়েছে। ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে সরকার লাল মুক্তিবার্তা তৈরির কাজ শুরু করে। আমাদের নলছিটির যুদ্ধকালীন কমান্ডার সেকেন্দার আলী মিয়া আমার নাম সেই তালিকায় দিয়েছেন। পরে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন জেলা কমান্ডার মো. শামসুদ্দিন মন্ত্রণালয়ে তালিকা জমা দেওয়ার আগে আমার নামটি কেটে দেন। শুধু আমার নামই নয়, কেটে দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মজিবর রহমান, আবদুল হাকিম মোল্লা, আবদুর রব মোস্তান, তোতা মিয়াসহ অনেকের নামই। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। ষড়যন্ত্র করে আমার নাম লাল মুক্তিবার্তায় দেননি তৎকালীন জেলা কমান্ডার শামসুদ্দিন।

লেখক : ঝালকাঠি প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা