kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

৪৪ বছরেও বসতভিটার স্থায়ী বন্দোবস্ত পাননি শহীদ জননী ননী বেওয়া

অসীম মণ্ডল   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪৪ বছরেও বসতভিটার স্থায়ী বন্দোবস্ত পাননি শহীদ জননী ননী বেওয়া

শহীদ জননী ননী বেওয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

শহীদজননী ননী বেওয়ার বসতঘরের সামনে একচিলতে জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে তাঁর শহীদ সন্তান আবুল কালাম আজাদের স্মৃতিফলক। আর যে বাড়িতে তিনি থাকেন, সেটি সরকারিভাবে বাৎসরিক লিজ দেওয়া জমি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসক আট শতক জমিসহ ২৯ শতক একটি পুকুর বাৎসরিক লিজের মাধ্যমে  ভোগদখলের অনুমতি দেয় তাঁকে। বর্তমানে দুই মেয়ে আর নাতি-নাতনি নিয়ে সেই ঠিকানায় কোনো রকমে চলছে শহীদ জননীর সংসার।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া স্কুল বিএ কলেজ রোড সংলগ্ন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শীতে জবুথবু ননী বেওয়া রোদ পোহাচ্ছেন সন্তানের স্মৃৃতিফলকের পাশে বসে। বয়স নব্বইয়ের ঘরে। আলাপচারিতায় বললেন মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা-পরবর্তী তাঁর জীবনের নানা কথা। সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠের এক জনসভায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মাথায় টুপি পরিয়ে দোয়া করেছিলেন বলেও জানালেন গর্বিত কণ্ঠে। সে সময় বঙ্গবন্ধু তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘মা, আমিই আপনার আজাদ।’ সেই দুর্লভ স্মৃতির বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কণ্ঠে ক্ষোভ আর অভিমানও ঝরে পড়ে।

মানসচক্ষে যেন আজও দেখতে পান অস্ত্রহাতে শত্রুর সঙ্গে লড়ছে তাঁর বীর ছেলে, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় আজাদ সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতে রওনা দেয়। ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের বালুঘাট এলাকায় প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। ৭ নম্বর সেক্টরে মেজর কামরুজ্জামানের অধীনে দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয় সে।’

১৯৭১ সালের ১৭ জুলাই আজাদ দিনাজপুর জেলার হিলি থানার কোরিয়া গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন। এই যুদ্ধে শহীদ হন তিনি। স্থানীয় লোকজন জানায়, মৃত্যুর আগে আজাদকে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু এক শোকবার্তায় শহীদ আজাদের কথা উল্লেখ করেন এবং তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের মাধ্যমে এক হাজার টাকা পাঠান। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য একটি বাড়ি ও পুকুর দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এখনো চলছে সেই লিজ বন্দোবস্ত। প্রতিবছর লিজ নবায়ন করতে হয়। দীর্ঘ ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি ও বাড়িটির স্থায়ী বন্ধোবস্ত পাননি এই শহীদ জননী। জীবনসায়াহ্নে এসে এই বীরপ্রসূ হতাশা আর ক্ষোভ মিশ্রিত কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দুই মেয়ের কী হবে?  বসতভিটার জমিটির তো এখনো স্থায়ী ব্যবস্থা হলো না। রোগে আর বার্ধক্যে ক্লান্ত এই শহীদ জননীর শেষ ইচ্ছা, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু কথা বলার, যা তিনি জমিয়ে রেখেছেন এত দিন। তাঁর মতে, দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর হয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়েই চলছে। কিন্তু দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের নামের তালিকার ওপর কেন ধুলার আস্তরণ জমছে?   লেখক : সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা