kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বেকার ছেলে আর নিজের ওষুধ খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মুক্তিযোদ্ধা আতি

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেকার ছেলে আর নিজের ওষুধ খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মুক্তিযোদ্ধা আতি

মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি আতিউর রহমান আতি। কিন্তু বাস্তবতার চাকায় পিষ্ট হতে হতে স্বাধীন বাংলাদেশে অসহায়ত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করে পরপারের ডাকের অপেক্ষায় দিন গুনছেন একাত্তরের এই বীর সেনানী। গায়ে জোর থাকার সময় অন্যের বাড়িতে মজুরি খেটে দিনাতিপাত করেছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গবাদি পশু পালন করেও সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু বছর দুয়েক আগে স্ট্রোক করার পর এখন কিছুই করতে পারেন না তিনি। মাসে ভাতা যা পান, তার চেয়ে তাঁর ওষুধ খরচ বেশি।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা থানার ছোলমাইদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, স্যাঁতসেঁতে ঘরে অপরিচ্ছন্ন বিছানায় শুয়ে আছেন মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান। সংবাদকর্মী পরিচয় দিতেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। বিছানার পাশেই ছড়ানো-ছিটানো গায়ের কাপড়। রান্নাঘরের তৈজসপত্রও খাটের পাশেই রাখা। আবছা অন্ধকার ঘর। পাশের কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন আতিউর রহমানের ছেলে। নগরায়ণের প্রভাবে এলাকাটিতে ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও তার ছোঁয়া লাগেনি এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারে। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। ছেলে বেকার। ফলে সংসারের ভার এখনো টানতে হয় মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমানকে। তাঁর স্ত্রী সুফিয়াও রোগ-শোকে আক্রান্ত।

আতিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গায়ে শক্তি না থাকায় হাঁটতেও পারছি না। এই কক্ষেই কাটে সময়। আমার জীবন তো শেষ, এখন ছেলেটির জন্য চিন্তা হয়।’

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘১০ হাজার টাকা পাই প্রতি মাসে। কিন্তু ওষুধ কিনতে হয় মাসে ১৫ হাজার টাকার বেশি।’

লেখক : ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা