kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার টাকা নেই মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়ার

ওমর ফারুক মিয়াজী   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার টাকা নেই মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়ার

বীর মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় প্রথম কলামে ‘মুক্তিযোদ্ধার বাঁচার লড়াই’ লোগো দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘মাঠের পাশে চা বেচেন মনু মিয়া’। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়ার জীবনসংগ্রামের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়। দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়ে ২০১৩ সালে তাঁর হাতে দুই লাখ টাকা সম্মানীর চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দাউদকান্দি উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের বাহেচর গ্রামে এক গাছতলায় চা দোকান চালান সত্তরোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া। গত সোমবার (৭ জানুয়ারি) গিয়ে দেখা গেল দোকান বন্ধ। কাছেই বাড়িতে পাওয়া গেল তাঁকে। দোচালা টিনের ঘরে শুয়ে আছেন। বৃদ্ধ শরীরে এখন নানা রোগ। একমাত্র ছেলে লেখাপড়া করতে পারেনি অর্থের অভাবে। তাই কোনো সরকারি চাকরি পায়নি। কাজকর্ম যখন যা পায় তা-ই করে সংসারকে সহযোগিতা করছে ছেলে ময়নাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া দুই মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে দেন। বাকি টাকা দিয়ে জীর্ণ ঘরটি মেরামত করে কিছু টাকা চা দোকানে পুঁজি খাটান। কয়েক বছর চা দোকান করে সংসার চালালেও এখন আর শরীরে কুলায় না মনু মিয়ার। অসুস্থ হয়ে প্রায়ই বিছানায় থাকতে হয় তাঁকে। বর্তমানে শ্বাসকষ্টের কারণে চা দোকানও চালাতে পারেন না। চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা দরকার। কোথায় পাবেন এত টাকা! মুক্তিযোদ্ধার যে ভাতা পান তা-ই তাঁর চার সদস্যের এই সংসারের আয়ের মূল উৎস।

একাত্তরে রণাঙ্গনের স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বলে মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়ার। আলাপকালে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে গেছিলাম। জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করে বাড়ি আইছি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া। বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে টাকা অনুদান দিয়েছেন, তা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে রাখব। আমি এখন অনেক রোগে ভুগছি। উনি যদি আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া থাকবে না।’

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানালেন মনু মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম। কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, ‘আপনাদের কারণে প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। সেই টাকা পেয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। আমরা দোয়া করি, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে আমরা গরিব আর মুক্তিযোদ্ধা পরিবাররা ভালো থাকব।’

লেখক : দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা