kalerkantho

মুক্তিযোদ্ধা শর্মিলা দেব সরস্বতী

এখন চাই নারীদের প্রাপ্য সম্মান

বিশ্বজিৎ পাল বাবু   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখন চাই নারীদের প্রাপ্য সম্মান

মুক্তিযোদ্ধা শর্মিলা দেব সরস্বতী। ছবি : কালের কণ্ঠ

কেমন আছেন? জানতে চাইতেই চোখ গড়িয়ে পড়ে পানি। জানালেন অর্থকষ্টে দিন কাটানোর কথা, শারীরিক অসুস্থতার কথা। তবে সব মিলিয়ে আগের চেয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘এখন নিয়মিত ভাতা পাচ্ছি। সরকারিভাবেও ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আমি বেশ খুশি।’

কথা হচ্ছিল মুক্তিযোদ্ধা শর্মিলা দেব সরস্বতীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন আমি চাই নারীদের প্রাপ্য সম্মান। একজন নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আমিও অন্যদের মতো অবহেলিত। সভা-সমাবেশে গেলে একপ্রকার তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়। প্রায় ৪৫ বছর টানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখা হলেও এখন তালিকায় নাম নেই।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার জিবি হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দেওয়ার জন্য সেখানে একটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে অনেক আহত মুক্তিযোদ্ধা এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আমোদাবাদ গ্রামের নিজ বাড়িতে বসে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা বলেন। জানালেন, রাজাকাররা ঘর পুড়িয়ে দেয়। চোরা বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজনের অনুরোধে ছেড়ে দেয়। ঘরে একাধিকবার চুরি হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আতঙ্ক কাজ করছিল। ভয়ে মুক্তিযোদ্ধার বিভিন্ন কাগজপত্র ও ছবি পুড়িয়ে দেন স্বামী। আগরতলা জিবি হাসপাতালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তোলা ছবিই ছিল শেষ সম্বল।

তিনি জানান, কাগজপত্র না থাকায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এ অফিস সে অফিসে ছোটাছুটি করতে হয়। ২০০০ সালে ভাতা পেতে শুরু করলেও তিন মাস পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১০ সাল থেকে আবার নিয়মিত ভাতা পেতে শুরু করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনিসুল হকের সহযোগিতায় একটি ঘর পেয়েছেন তিনি। ‘বীর নিবাস’ নামের ওই ঘরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের অনেক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন তিনি।

আবেগের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাওয়া হয়তো সম্ভব না। তবে আমি চাই, আইনমন্ত্রী মহোদয় আমার ঘরে আসুন। তিনি আমার ঘরে না আসা পর্যন্ত আমার মনে শান্তি লাগবে না।’ শর্মিলা দেব জানান, স্বামী থাকতেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে হওয়া ছোট মেয়ে তাঁর সঙ্গেই থাকেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়েই চলে সংসার। তবে বয়সের ভারে অসুখবিসুখের কারণে ওষুধ কিনতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয় বলে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়।

লেখক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মন্তব্য