মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই কারণে দেশটি একাই মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক ও বিশ্লেষক গিদেওন লেভি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।
তিনি বলেন, এটা একেবারেই পরিষ্কার যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘না’ বলার অবস্থায় ইসরায়েল নেই। আর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিশ্চিতভাবেই ‘না’ বলার অবস্থায় নেই।
লেভির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি হলো ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে যা করতে বলবেন, তাকে ঠিক সেভাবেই তা করতে হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন। তার মতে, যুদ্ধ ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে অনেক সময় জনপ্রিয়তা পায়, যা সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনও এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার চেয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু করলে জনসমর্থন পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা দেখা যায়।
লেভির দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে হামলার পক্ষে জনমত ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। তবে তিনি মনে করেন, এই সমর্থন এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ইসরায়েলে এখন এক ধরনের যুদ্ধ ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করছে যে, এসব সামরিক অভিযানের বাস্তব কোনো লাভ নেই।
গাজা, লেবানন এবং ইরান- কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি বলে অনেকে মনে করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি মানুষ এটা বুঝতে পারবে- বলেন তিনি।