• ই-পেপার

প্রথম সুপারসনিক পরীক্ষায় সফল নাসার এক্স-৫৯

ডিআরসি কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০

অনলাইন ডেস্ক
ডিআরসি কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০
ছবি : রয়টার্স

পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এক মাসেরও কম সময়ে অন্তত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, তবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, কিছু মানুষের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস এবং কিছু এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৫০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১০১ জন মারা গেছেন এবং ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। এ ছাড়া উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও রোগী পাওয়া গেছে। রোগটি সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, কারণ প্রাদুর্ভাবটি দেরিতে শনাক্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হচ্ছে। এ ছাড়া এই ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

এবারের প্রাদুর্ভাবটি বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কারণে হয়েছে, যা আগের বেশিরভাগ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘জাইরে’ ধরনের ভাইরাস থেকে আলাদা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার একটি কারণ হলো এখন পরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগে সংগ্রহ করা ও জমে থাকা অনেক নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, যেগুলো আগে পরীক্ষা করা যায়নি।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। সামরিক স্বাস্থ্যকর্মীরা, যারা খুব কম বেতন ও বিশ্রাম পান, তাদের ওপর ক্ষুব্ধ কিছু বাসিন্দা একাধিকবার হামলা করেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না।

পূর্ব কঙ্গোতে বহু বছর ধরেই অনেকগুলো বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। এসব গোষ্ঠীর কিছু বিদেশি শক্তি বা চরমপন্থী দায়েশ (আইএস) গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই সংঘাতগুলো স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় যেতে বাধা দিচ্ছে, নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং অনেক সংক্রমণ নজরের বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় নেতা ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা খুবই জরুরি।


 

নিজের গড়া দলের ভেতর ক্রমশ দুর্বল এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য নেত্রী

অনলাইন ডেস্ক
নিজের গড়া দলের ভেতর ক্রমশ দুর্বল এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য নেত্রী
ছবি : রয়টার্স

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। নির্বাচনে পরাজয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই দলটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দলের ভেতরে বিভাজন ও বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো সাধারণ আঞ্চলিক নেতা নন। ২০১১ সালে তিনি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটান। এর মাধ্যমে বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ধরে চলা বামপন্থী শাসনের একটি যুগের সমাপ্তি ঘটে। পরে টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা প্রায় ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছেন। এই সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-কে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী আঞ্চলিক দলে পরিণত করেন এবং দেশের প্রভাবশালী বিরোধী নেতাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাই মাত্র এক মাসের মধ্যে দলের ভেতরে এমন পরিবর্তন অনেকের কাছেই বিস্ময়কর হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গত মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে এবং টিএমসির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, এসব কারণ এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে টিএমসি পুরোপুরি পরাজিত হয়নি। দলটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ভোট পেয়েছে, যা বিজেপির চেয়ে মাত্র ৩০ লাখ কম। 

এ ছাড়া মোট ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে। বর্তমানেও টিএমসি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। দলটির রাজ্য বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক এবং জাতীয় সংসদে ২৮ জন সদস্য রয়েছে। সাধারণভাবে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে হারার পর নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসর (টিএমসি) ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলটি যেন ভেতর থেকেই ভেঙে পড়ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে রাজ্য বিধানসভায়। 

নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টিএমসির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জী বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। অভিষেককে দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়।

বিদ্রোহী বিধায়করা দলের আইনসভা শাখার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করেন এবং দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনসভার নথিপত্রে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তোলেন। প্রথমে এই সংকটকে শুধু রাজ্য পর্যায়ের বিদ্রোহ হিসেবে দেখা হলেও পরে তা জাতীয় রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ে। 

খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন ভারতের পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় সংসদীয় গোষ্ঠী থেকে আলাদা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে চান বলেও জানা গেছে। যদি এই তথ্য সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু দলীয় বিদ্রোহ নয়, বরং টিএমসির নেতৃত্ব, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের জন্য একটি বড় সংকট হয়ে উঠবে। তবে সমস্যাটি শুধু সংসদ সদস্যদের বিদ্রোহেই সীমাবদ্ধ নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে আরো গভীর অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।


উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ফলতা আসনে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পুনর্নির্বাচন (রিপোল)-এ দলটি সেখানে কোনো প্রার্থীই দিতে পারেনি। এরপর আসে দলের দুর্বলতার আরেকটি বড় প্রতীক। জুন মাসের শুরুতে মমতার এক জনসভায় মাত্র কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একসময় তার সভাগুলোতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হতো, যা তার রাজনৈতিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরা হতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই জনসমর্থন অনেক কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা হারানোর পর খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। প্রায় প্রতিদিনই দলের কোনো না কোনো নেতা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। অনেক দলীয় কার্যালয় ফাঁকা পড়ে আছে, সংগঠনের নেটওয়ার্ক ভেঙে যাচ্ছে এবং একসময় প্রভাবশালী নেতারাও নিজেদের এলাকায় প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখে পড়ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে খুব কমই দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টিএমসির এই দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়া দলের একটি বড় সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। ২০১১ সালে যে বামফ্রন্ট সরকারকে তারা ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল, তাদের মতো শক্ত আদর্শভিত্তিক সংগঠন টিএমসি গড়ে তুলতে পারেনি।

দলটিকে একত্রে ধরে রেখেছিল মূলত মমতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত সুযোগ-সুবিধা। ভট্টাচার্যের ভাষায়, টিএমসির ভিত্তি ছিল দুটি স্তম্ভের ওপর। এক, মমতার জনপ্রিয়তা এবং দুই, সরকারি সম্পদ ও ক্ষমতার সুবিধা।

রাজ্যজুড়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় সংগঠনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য।

দল ক্ষমতায় থাকাকালে এই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে তীব্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তেন, যার ফলে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটত। তবে ক্ষমতায় থাকার কারণে তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, সুরক্ষা এবং সমালোচকদের অভিযোগ অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগও পেতেন।

কিন্তু এখন এই পুরো ব্যবস্থার দুটি প্রধান ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়েছে, একদিকে দল রাজ্য ক্ষমতা হারিয়েছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের মতো অজেয় ভাবমূর্তিও আর ততটা শক্তিশালী নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ক্ষমতা হারিয়েছে এবং কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর ফলে দলের অনেক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ, তদন্ত এবং জনরোষের মুখে পড়ছেন। তাই অনেকের মধ্যেই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’ এখানেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল ভার্মা বলেন, আগে দল ভাঙার ঘটনা সাধারণত কয়েকজন নেতার দলত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এখন পুরো একটি গোষ্ঠী বিদ্রোহ করতে পারে, কারণ তাদের সামনে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিজেপি রয়েছে। বিজেপি তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা, সম্পদ এবং সুরক্ষার সুযোগ দিতে পারে।

তার মতে, এই পরিস্থিতি অনেকটা শিব সেনা ভাঙনের মতো। সেখানে নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং একটি পরিবারের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে বড় ধরনের বিদ্রোহ দেখা গিয়েছিল। 

ভার্মা মনে করেন, টিএমসির বর্তমান সংকট আসলে ভারতের রাজনীতির বৃহত্তর পরিবর্তনেরই অংশ। তার মতে, অনেক আঞ্চলিক দল এখন ক্রমেই একজন নেতা বা একটি পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতারা প্রতিষ্ঠাতা নেতার নেতৃত্ব মেনে নিলেও, নেতৃত্ব যখন পরিবারের উত্তরসূরির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন অনেকেই তা মেনে নিতে চান না। উদ্ধব ঠাকরে তার ছেলে আদিত্য ঠাকরেকেও আনার পর শিবসেনায় যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তা এই সমস্যার একটি উদাহরণ।

আগে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ সাধারণত রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, অথবা বিদ্রোহী নেতাদের বড় চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত শক্তি ও সম্পদ থাকত না। কিন্তু বিজেপির উত্থান সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।

ভার্মার ভাষায়, ‘প্রজন্মগত নেতৃত্ব পরিবর্তন, পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর দলীয় কাঠামো এবং বিজেপির মতো শক্তিশালী বিকল্পের উপস্থিতি মিলিয়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো দল ক্ষমতা হারালে ক্ষমতা ও প্রভাবের জন্য যোগ দেওয়া অনেক স্থানীয় নেতা দলে থাকার প্রয়োজনীয়তা আর অনুভব করেন না।’ তবে ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছেন এবং দলের সংকট মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। 

তিনি বিজেপির জয়কে ‘অবৈধ’ ও ‘অনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে প্রায় ১০০টি আসন ‘ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তিনি এই বিদ্রোহকে সম্পূর্ণ স্বার্থপরতা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন কিছু মানুষ ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছে, আর এখন আমরা ক্ষমতা হারানোর পরই তারা অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে গেছে।’

তবুও তিনি বিশ্বাস করেন দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তার ভাষায়, ‘আমরা দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলব। টিএমসি কেবল নেতাদের দল নয়, এটি কর্মীদের দল।’ এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) কি এই গভীর সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে?

এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিদ্রোহ ভেঙে যেতে পারে এবং একজন ছোট বিধায়কের নেতৃত্বে থাকা বিদ্রোহীরা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু যদি বিদ্রোহী সাংসদরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন, তাহলে পরিস্থিতি বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।

তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই রাজনৈতিকভাবে শেষ বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বঙ্গ রাজনীতিতে এখনো এমন একজন মুখ আছেন যাকে সহজে উপেক্ষা করা যায় না, তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তবে তার মতে, পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যথেষ্ট নয়। দলকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং নেতৃত্বে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই দিকটি তার শক্তিশালী দিক নয়।

তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছেন। কিন্তু এবারকার পরিস্থিতি ভিন্ন, একটি সরকার উৎখাত করা এক জিনিস আর নিজের দলের ভেতরের ভাঙন ও ত্যাগের পর দলকে আবার দাঁড় করানো সম্পূর্ণ আলাদা চ্যালেঞ্জ।
 

আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

অনলাইন ডেস্ক
আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়
ছবি: রয়টার্স

চীনের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে দেশটির বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সোমবার এই হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান বাইদু, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি এবং আরো কয়েকটি বড় কম্পানি।

এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সাম্প্রতিককালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়।

এরপর ট্রাম্প শি চিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণও জানান। তবে নতুন এই কালো তালিকা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পেন্টাগনের প্রকাশিত তালিকায় যেসব কম্পানির নাম রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

এর কয়েক মাস আগে পেন্টাগন একই ধরনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয়। নতুন তালিকাটি মূলত ফেব্রুয়ারিতে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত তালিকার কাছাকাছি। তবে এবার আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া দুটি বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের কৌশলগত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

চীনবিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জন মুলেনার এই তালিকাকে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই তালিকা শুধু মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্যও সতর্ক সংকেত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

মুলেনার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় এটি চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে অবদান রাখার সমতুল্য।

তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কাজ করা চীনের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে আলিবাবা, বাইদু এবং টেনসেন্ট অন্যতম। টেনসেন্ট অবশ্য আগের তালিকাতেও ছিল।

তবে বাইদু যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

বাইদুর একজন মুখপাত্র বলেন, তারা এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন। বাইদুকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ নেই। 

তিনি আরো বলেন, বাইদুকে সামরিক কম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তালিকা থেকে কম্পানির নাম সরাতে তাদের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলিবাবাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তারা প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আলিবাবা জানায়, আলিবাবা গ্রুপ কোনো সামরিক কম্পানি নয় এবং চীনের সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলেরও অংশ নয়। তাই এই তালিকায় কম্পানির নাম যুক্ত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকাভুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নাও হতে পারে। তবে এটি ভবিষ্যতে আরো কঠোর অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন তালিকায় আরো যুক্ত হয়েছে চীনের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উশি অ্যাপটেক এবং রোবট নির্মাতা স্টার্টআপ ইউনিট্রি। ইউনিট্রি মানুষের মতো দেখতে উন্নত রোবট তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, চীনের বড় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত চিপ শিল্পকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন

অনলাইন ডেস্ক
হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের কট্টরপন্থী জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিনিহত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি হলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান সর্বাধিনায়ক। এর আগে তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। 

তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হতে পারেন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু বিশ্লেষকের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ারের মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বড় ধরনের প্রভাব রাখেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভাহিদির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে ভাহিদির মৃত্যুর খবর এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

আহমেদ ভাহিদির আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। সমালোচকদের মতে, তার বক্তব্যগুলো আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ছিল। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ভাহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

আইআরজিসি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সংস্থাটি শুধু সামরিক কার্যক্রমই নয়, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও তদারকি করে।

এদিকে ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের আরো সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত তেহরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যেসব কর্মকাণ্ডকে তারা অস্থিতিশীলতামূলক বলে মনে করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।