• ই-পেপার

ইরাকে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

অনলাইন ডেস্ক
আলিবাবা-বাইদুসহ একাধিক চীনা কম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়
ছবি: রয়টার্স

চীনের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে দেশটির বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সোমবার এই হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান বাইদু, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি এবং আরো কয়েকটি বড় কম্পানি।

এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সাম্প্রতিককালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখায়।

এরপর ট্রাম্প শি চিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণও জানান। তবে নতুন এই কালো তালিকা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পেন্টাগনের প্রকাশিত তালিকায় যেসব কম্পানির নাম রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

এর কয়েক মাস আগে পেন্টাগন একই ধরনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই তালিকা সরিয়ে নেওয়া হয়। নতুন তালিকাটি মূলত ফেব্রুয়ারিতে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত তালিকার কাছাকাছি। তবে এবার আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া দুটি বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের কৌশলগত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

চীনবিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জন মুলেনার এই তালিকাকে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই তালিকা শুধু মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্যও সতর্ক সংকেত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

মুলেনার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় এটি চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে অবদান রাখার সমতুল্য।

তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কাজ করা চীনের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে আলিবাবা, বাইদু এবং টেনসেন্ট অন্যতম। টেনসেন্ট অবশ্য আগের তালিকাতেও ছিল।

তবে বাইদু যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

বাইদুর একজন মুখপাত্র বলেন, তারা এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন। বাইদুকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ নেই। 

তিনি আরো বলেন, বাইদুকে সামরিক কম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তালিকা থেকে কম্পানির নাম সরাতে তাদের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলিবাবাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তারা প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আলিবাবা জানায়, আলিবাবা গ্রুপ কোনো সামরিক কম্পানি নয় এবং চীনের সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলেরও অংশ নয়। তাই এই তালিকায় কম্পানির নাম যুক্ত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকাভুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নাও হতে পারে। তবে এটি ভবিষ্যতে আরো কঠোর অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন তালিকায় আরো যুক্ত হয়েছে চীনের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উশি অ্যাপটেক এবং রোবট নির্মাতা স্টার্টআপ ইউনিট্রি। ইউনিট্রি মানুষের মতো দেখতে উন্নত রোবট তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, চীনের বড় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত চিপ শিল্পকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন

অনলাইন ডেস্ক
হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সর্বাধিনায়কের মৃত্যুর গুঞ্জন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের কট্টরপন্থী জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিনিহত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি হলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান সর্বাধিনায়ক। এর আগে তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। 

তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ একটি ছোট গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াহিদি নিহত হতে পারেন। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আহমাদ ওয়াহিদির মৃত্যুর দাবি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কিছু বিশ্লেষকের কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ারের মতে, ওয়াহিদি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আইআরজিসির ভেতরে বড় ধরনের প্রভাব রাখেন এবং ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভাহিদির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে ভাহিদির মৃত্যুর খবর এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

আহমেদ ভাহিদির আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। সমালোচকদের মতে, তার বক্তব্যগুলো আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ছিল। সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ভাহিদির মৃত্যুর খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।

আইআরজিসি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। সংস্থাটি শুধু সামরিক কার্যক্রমই নয়, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডও তদারকি করে।

এদিকে ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিবিরোধী প্রচেষ্টায় ইউরোপের আরো সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত তেহরানের ওপর আরো চাপ বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যেসব কর্মকাণ্ডকে তারা অস্থিতিশীলতামূলক বলে মনে করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।

 

প্রথম সুপারসনিক পরীক্ষায় সফল নাসার এক্স-৫৯

অনলাইন ডেস্ক
প্রথম সুপারসনিক পরীক্ষায় সফল নাসার এক্স-৫৯
ছবি: নাসা

নাসার পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ এক্স-৫৯ প্রথমবারের মতো শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিমানটি সফলভাবে সুপারসনিক বা শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে পৌঁছায়। নাসা বলছে, উড্ডয়নের পুরো সময়জুড়েই উড়োজাহাজটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেছে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ছিল ৮১ মিনিটের। উড্ডয়নের একপর্যায়ে এক্স-৫৯ ম্যাক ১ দশমিক ১ গতিতে পৌঁছে। অর্থাৎ বিমানটি ঘণ্টায় প্রায় ৭১৩ মাইল বেগে উড়ছিল। সে সময় এর উচ্চতা ছিল ৪৩ হাজার ৪০০ ফুট।

সাধারণত শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়লে বিমান থেকে প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এক্স-৫৯ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি অতিদ্রুত গতিতে উড়লেও বড় বিস্ফোরণের মতো শব্দ না করে তুলনামূলকভাবে অনেক কম শব্দ তৈরি করে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরীক্ষার সময় বিমানটি পরিচালনা করেন নাসার পরীক্ষামূলক পাইলট জিম ক্লু লেস। তিনি বলেন, শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়লেও তিনি শারীরিকভাবে কোনো বিশেষ পরিবর্তন অনুভব করেননি।

লেস বলেন, ককপিটের যন্ত্রপাতি দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়ছেন। তবে তিনি আলাদাভাবে কিছুই অনুভব করেননি। 

তিনি আরো বলেন, উড্ডয়নের পুরো প্রক্রিয়া খুবই মসৃণ ছিল। ফলে সহজেই ম্যাক ১ দশমিক ১ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

এই পরীক্ষার সময় নাসার একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এক্স-৫৯–এর কাছাকাছি অবস্থান করে উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করে। তবে এফ-১৫–এর শক্তিশালী ইঞ্জিনের শব্দের কারণে এক্স-৫৯ কোনো শব্দ তৈরি করে থাকলেও সেটি আলাদাভাবে শোনা সম্ভব হয়নি।

নাসা জানিয়েছে, পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে এক্স-৫৯ ঠিক কতটা শব্দ তৈরি করে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হবে। গবেষকরা বিশেষভাবে দেখতে চান, বিমানটি প্রচলিত সুপারসনিক বিমানের তুলনায় কতটা কম শব্দ সৃষ্টি করতে পারে।

শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড্ডয়ন পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার পর এখন এক্স-৫৯–এর সামনে রয়েছে আরও বড় একটি ধাপ। সেটি হলো প্রথম ‘মিশন কন্ডিশনস’ উড্ডয়ন।

এই পরীক্ষায় বিমানটি ভবিষ্যতের নির্ধারিত গতি ও উচ্চতায় উড়বে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্স-৫৯ তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করবে। মাটিতে থাকা মানুষের কাছ থেকে বিমানটির শব্দ কতটা শোনা যায় এবং তা কতটা বিরক্তিকর মনে হয়, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এই পরীক্ষার সময় বিমানটির গতি হবে ম্যাক ১ দশমিক ৪, যা ঘণ্টায় প্রায় ৯২৫ মাইল। একই সঙ্গে এটি ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়বে।

পাইলট জিম লেস বলেন, বিমানটি আরো বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। সেই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।'

এক্স-৫৯ হলো নাসার ‘কুয়েস্ট’ মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই মিশনের লক্ষ্য হলো কম শব্দ সৃষ্টি করে অতিদ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব কি না, তা প্রমাণ করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থলভাগের ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক সুপারসনিক বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সাম্প্রতিক এই উড্ডয়ন আরেকটি কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ প্রথমবারের মতো নাসার ফ্লাইট ট্র্যাকারেও এক্স-৫৯–এর উড্ডয়ন সরাসরি দেখা গেছে। ফলে গবেষক ও বিমানপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।
 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা চীন ও উত্তর কোরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা চীন ও উত্তর কোরিয়ার
ছবি : রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।

সম্মেলনে দুই নেতাই কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রাখতে আগামীতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়ের ওপর জোর দিয়েছেন। এ ছাড়া কিম জং উন চীনের ‘এক চীন এক নীতি’র প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সফরটি নিয়ে দুই দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রচারণায় কিছুটা ভিন্ন সুর লক্ষ্য করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। চীনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’ যেখানে বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মতো বাস্তবমুখী ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলোর ওপর জোর দিয়েছে, সেখানে উত্তর কোরিয়ার ‘কেসিএনএ’ এই সম্মেলনকে দুইটি সমকক্ষ দেশের চুক্তি হিসেবে বড় করে দেখিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া নিজেকে চীনের ওপর নির্ভরশীল বা সুবিধাভোগী রাষ্ট্র হিসেবে না দেখিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেইজিংয়ের সমান মর্যাদার এক শক্তিশালী বন্ধু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এ কারণে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং তাইওয়ান ইস্যুর মতো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা আমেরিকার সাথে সম্পর্ক নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

প্রতিবেশী এই দুই দেশের মৈত্রী চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শি জিনপিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনা বিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। বেইজিং কখনোই উত্তর কোরিয়ার সাথে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাবে না বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন। সফর চলাকালীন শি জিনপিং ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল জু। তারা দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী দেশাত্মবোধক ও বিপ্লবী গানের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান একসঙ্গে উপভোগ করেন। এ ছাড়া কিম জং উন চীনা প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি নৈশভোজেরও আয়োজন করেন।

আমেরিকার সাবেক কূটনীতিকদের একাংশের ধারণা, উত্তর কোরিয়া চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের মডেল অনুসরণ না করায় বেইজিংয়ের কিছুটা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে চীন এখনো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন ঘটানো।

সূত্র : রয়টার্স

ইরাকে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন | কালের কণ্ঠ