চীনের শানসি প্রদেশে এক অভিনব আবাসন জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। চার বছর আগে এক ব্যক্তি একটি বহুতল ভবনের ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন, ভবনটি আসলে ৩২ তলার। এই প্রতারণার শিকার হয়ে ওই ক্রেতা এখন নিজের জমানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না, মেলেনি কোনো আইনি ক্ষতিপূরণও। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
হতাশ ওই ক্রেতার নাম শেন। তিনি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরের বাসিন্দা। ২০১৩ সালে শিয়ান শহরের উপকণ্ঠে একটি গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণাধীন ওই ভবনে ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট বুকিং দেন তিনি। প্রতি বর্গমিটারের দাম ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান (প্রায় ৪০০ মার্কিন ডলার)।
স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে এই ফ্ল্যাটের দাম ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। কম দামের কারণ হিসেবে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি ছিল ‘সীমিত সম্পত্তির অধিকার’ (লিমিটেড প্রোপার্টি রাইটস) নীতিমালার আওতাধীন। চীনে গ্রামীণ সমবায় জমিতে গড়ে ওঠা অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নামে ডাকা হয়। এই ধরনের ফ্ল্যাট কেনাবেচা আইনিভাবে বৈধ নয় এবং কোনো আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না। তবে দাম সস্তা হওয়ায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই ফ্ল্যাটগুলো কেনেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে শেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম পরিশোধ করেন। ডেভেলপার কোম্পানি তাকে আশ্বাস দিয়েছিল, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র ও শংসাপত্র পরে ঠিক করে নেওয়া হবে। যদিও দেশটির আইন অনুযায়ী অবৈধ প্রকল্পের বৈধতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
২০১৫ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০১৭ সালে ডেভেলপার কোম্পানি শেনকে জানায় ভবনটির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি টাকা পরিশোধ করতে বলে। কিন্তু শেন ফ্ল্যাটের চাবি না পাওয়া পর্যন্ত বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এর কয়েক মাস পরই আসল সত্যটি সামনে আসে। ডেভেলপার কোম্পানি শেনকে জানায়, ভবনটিতে ৩৪ তলা বলে কিছু নেই, সেটি আসলে ৩২ তলা। কোম্পানি তাকে ৩২ তলায় একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সে সময় বাকি টাকা জোগাড় করতে পারেননি শেন। এর দুই মাস পর তাকে জানানো হয়, ৩২ তলার ফ্ল্যাটটিও অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় না দেখে শেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সালিশের আবেদন করেন। সালিশি আদালত ডেভেলপার কোম্পানিকে শেনের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং সেই সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ ও ৪৭ ইউয়ান জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত শেন তার পাওনা টাকা ফেরত পাননি। পরে তিনি স্থানীয় দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ওই ডেভেলপারের ওপর ‘ভোগ-ব্যয় নিষেধাজ্ঞা’ (কনসাম্পশন রেস্ট্রিকশন অর্ডার) জারি করে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই ডেভেলপারের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধিত নেই। ফলে শেনের টাকা আদায়ের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
এই ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই ধরনের সস্তা ও অবৈধ ফ্ল্যাট কেনার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। তবে অনেক সাধারণ ক্রেতা বলছেন, প্রতি মাসে ফ্ল্যাট ভাড়ার টাকা দেওয়ার চেয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকে না।




