kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইরান সরকারের পতনের সম্ভাবনা দেখছেন নির্বাসিত লেখিকা দারভিশি

অনলাইন ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইরান সরকারের পতনের সম্ভাবনা দেখছেন নির্বাসিত লেখিকা দারভিশি

হিজাব না পরার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। তুরস্কে বসবাস করা ইরানিরাও বিক্ষোভ করছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভে সমর্থন জোগাচ্ছেন নির্বাসিত ইরানি লেখিকা সেপিদেহ দারভিশি। ইরান সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পাঁচ বছর আগে তুরস্কে নির্বাসিত হয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এই লেখিকা।

বিজ্ঞাপন

 আমিনির হত্যাকাণ্ড ইরানিদের জন্য শেষ খড়কুটো ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ইরানের কট্টরপন্থী শাসনের পতন হতে চলেছে।

ইরান নারীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি সহিংস বলেও মন্তব্য করেছেন দারভিশি। তিনি এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং শিকার বলে জানিয়েছেন।  হাতে অত্যাচারের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি জানান, বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ঠিকমতো কলম ধরতে পারেন না তিনি।

ইরানের নারী ও পুরুষরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নির্বাসিত ইরানি হিসেবে তিনি বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানি হিসেবে আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন দেশে বাস করতে চাই। এটি আমাদের একমাত্র দাবি এবং আমরা লড়াই করে তা অর্জন করব। ’

দারভিশি জানিয়েছেন, ইরানি গোয়েন্দাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি একজন লেখক এবং একজন খ্রিস্টান। কয়েক বছর আগে ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমাদের চার্চে এসে আমাকে তাদের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করতে বলে। কারণ আমাদের চার্চে এমন কিছু মানুষ ছিল যারা শরিয়াহ আইনের ভিত্তিতে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল। ’

ইরানে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা নিষিদ্ধ এবং যারা তাদের ধর্ম পরিবর্তন করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দারভিশি জানিয়েছেন, গোয়েন্দারা চেয়েছিল যাতে তিনি ধর্মান্তরিতদের শনাক্ত করে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানান। তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে মারধর করে এবং ধর্ষণের হুমকি দেয়। আমাকে মিথ্যা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে তারা। আমাকে কারাগারে সাজাও দেওয়া হয়েছে। শেষ অবলম্বন হিসেবে আমাকে আমার দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। ’

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। কিন্তু সেখানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি তেহরানে থাকা তার পরিবারের খোঁজ নিতে পারছেন না।

সূত্র : এএনএফ নিউজ।



সাতদিনের সেরা