kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পশ্চিমের তীব্র নিন্দায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিলেন পুতিন

অনলাইন ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০২:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পশ্চিমের তীব্র নিন্দায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিলেন পুতিন

ক্রেমলিনের অনুষ্ঠানে পুতিনের ভাষণ। ছবি: বিবিসি/গেটি

ইউক্রেনের চার অঞ্চল যুক্ত করে নেওয়ার অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের ব্যাপক নিন্দা করেছেন। দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও পশ্চিমবিরোধিতার মাত্রা বাড়িয়ে তোলাই দৃশ্যত তার লক্ষ্য। বিবিসির রাশিয়া বিষয়ক সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ পুতিনের ভাষণের বিশ্লেষণে যা লিখেছেন তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :

এ সপ্তাহে রাশিয়ান সংবাদপত্র মস্কোভস্কি কমসোমোলেৎস এ উপসংহারে পৌঁছেছে যে ভ্লাদিমির পুতিনের পিছু হটার কোনো জায়গা নেই। তাই তিনি আক্রমণ চালিয়েই যাবেন।

বিজ্ঞাপন


কয়েক দিন পরেই ক্রেমলিন প্রাসাদের সেন্ট জর্জ হলে অনুষ্ঠিত হলো এমপি, সিনেটর এবং কর্মকর্তাদের সামনে বিতর্কিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করার বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্ত (ক্রেমলিনের ভাষায় ‘অধিভুক্ত’) ইউক্রেন এবং পশ্চিমের সঙ্গে তার যুদ্ধের সাম্প্রতিকতম আক্রমণ।

এই সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ক্রেমলিন বাস্তব তথ্য পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশটি এমন সময়ে তা করছে যখন কিনা তারা বাস্তবে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে বরং বাধ্য হয়েছে।

পুতিন কিয়েভ এবং পশ্চিমাদের কাছে দেখাতে চান, তিনি এমন একটা কিছু করে ফেলেছেন, যা আর পাল্টানো সম্ভব হবে না।

বিষয়টি ইউক্রেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সংঘাতের মাত্রা যথেষ্ট বাড়িয়ে দেবে।

ক্রেমলিন অনুষ্ঠানটি চড়া মাত্রার দেশাত্মবোধক প্রভাবের জন্য যত্নসহকারে সাজিয়েছিল। আমন্ত্রিত দর্শকরা প্রেসিডেন্টের কথায় প্রচুর করতালি দিয়েছেন, ছিল জাতীয় সংগীতের একটি আলোড়ন তোলা পরিবেশনা এবং পুতিন ও  সংযুক্ত অঞ্চলগুলোর ক্রেমলিন-নিযুক্ত চার প্রশাসকের পরস্পরের হাত ধরে ‘রাশিয়া! রাশিয়া!’ স্লোগানের মতো নাটকীয় ঘটনা। হলের সবাই যোগ দেন স্লোগানে।

কিন্তু ‘এটা এখন আমার জমি’ মুখ দিয়ে বলাই একে সত্যি করে তোলে না। বিশেষ করে, অধিকৃত অঞ্চলে তথাকথিত ‘গণভোট’-এর আলোকে, যা আদৌ প্রকৃত গণভোট ছিল না। তা ছিল ক্রেমলিন-কল্পিত, ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত অনুষ্ঠান, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের ১৫% অঞ্চল দখল করার অছিলা তৈরি করা। ইউক্রেন এই সংযুক্তি মেনে নেবে না। সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও না।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ডে রাশিয়ার দাবিকে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই স্বীকৃতি দেবে না। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইতিমধ্যেই বলেছেন, ‘এই সংযুক্তির কোনো আইনি মূল্য থাকবে না। এটি হবে নিন্দনীয়। ’

তার পরও ঘটনাটি এ প্রশ্ন ছুড়ে দেয় : এখন তাহলে কী? ইউক্রেনীয় সেনারা যখন তাদের ভূমি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করতে অগ্রসর হবে তখন পুতিন কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন?

রাশিয়া ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, তাদের ‘নতুন অঞ্চলে’ কোনো আক্রমণ রাশিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা হিসেবেই দেখা হবে। ক্রেমলিন বলেছে, তারা ‘হাতে থাকা সব ধরনের উপায়ে’ জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।

‘হাতে থাকা সব ধরনের উপায়’-এর মধ্যে আছে পারমাণবিক অস্ত্রও। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তারা মস্কোর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে রাখঢাক না করেই নানা ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

শুক্রবার ভ্লাদিমির পুতিন তার ভাষণে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে জাপানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘নজির’ তৈরি করেছিল।

এই মন্তব্যটি পশ্চিমা সরকারগুলোর নজর এড়ানোর কথা নয়।  

রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি-ধমকি পশ্চিমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিজের জনগণকেও উদ্বিগ্ন করছে। এই সপ্তাহে দেশের মূলধারার পত্রিকা নেজাভিসিমায়া গাজেতা পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ‘পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দেওয়ার’ জন্য 'ঊর্ধ্বতন রুশ কর্মকর্তাদের' তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘এটা অবিশ্বাস্য যে আজ... রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পারমাণবিক অস্ত্রের বোতাম সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা কোনো দ্বিতীয় চিন্তা না করেই এটি বলছেন। চিন্তা ও কথায় পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে সুযোগ দেওয়া একে বাস্তবে ঘটার সুযোগ দেওয়ার এক নিশ্চিত পদক্ষেপ। ’

প্রেসিডেন্ট পুতিনের শুক্রবারের ভাষণের যে দিকটি আমার সবচেয়ে বেশি নজরে পড়েছে তা হলো, এটি পশ্চিমাবিরোধী বিদ্বেষে পূর্ণ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশে তীব্র জাতীয়তাবাদী, পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলার জন্য মাঠে নেমেছেন বলেই মনে হচ্ছে।

এটি দেশের ভেতরের সমস্যা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বেহাল অবস্থা থেকে নজর সরানোর কার্যকর কৌশলই বটে। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা