kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কার পেলেন ইউক্রেনীয়সহ কয়েকজন

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




‘রাইট লাইভলিহুড’ পুরস্কার পেলেন ইউক্রেনীয়সহ কয়েকজন

ইলওয়াদ এলমান (বাঁয়ে) ও তার মাফারতুন আদান

২০২২ সালে বিশ্বে ‘শান্তি ও মানবাধিকার’ বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সুইডেন থেকে দেওয়া ‘রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার’ পেয়েছে ইউক্রেনের ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুক এবং তাঁর সংগঠন ‘সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ’সহ (সিসিএল) কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার সুইডেনের স্টেট থিয়েটারের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে রাইট লাইভলিহুড ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওলে ফন উক্সেকুল এই ঘোষণা দেন।

ইউক্রেনের ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুক ও তাঁর সংগঠন ছাড়া পুরস্কৃত অন্যরা হলো সোমালিয়ার মানবাধিকার নেতা ফারতুন আদান ও ইলওয়াদ এলমান, ভেনিজুয়েলার সমবায় নেটওয়ার্ক ‘সেকোসেসোলা’ এবং উগান্ডাভিত্তিক ‘আফ্রিকা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি গভর্ন্যান্স’ (অ্যাফিগো)।

বিজয়ীরা বিশ্বশান্তি স্থাপন এবং মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ সুরক্ষার জন্য নিজ নিজ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্মান ও পুরস্কারের অর্থমূল্যের বিবেচনায় ‘রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার’ বিশ্বে শান্তির জন্য ‘বিকল্প নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মানবাধিকার আইনজীবী ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুক ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধের তথাদি নথিভুক্ত করেছেন। মাতভিচুক ও তাঁর সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজকে (সিসিএল) ইউক্রেনে টেকসই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহির পথ তৈরিতে কাজ করার জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

ইউক্রেনসহ ইউরেশিয়া অঞ্চলে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সংহতির প্রচার ও প্রসারের জন্য ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সিসিএল। ২০১৩-১৪ সালে কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ারে বিক্ষোভের কারণে সংগঠনটি সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠে। সিসিএল মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করা ছাড়াও মানবাধিকার ইস্যুতে নাগরিকদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে। ইউক্রেনের নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যোগদান করার জন্য ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুকের বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতা বিচারকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

ফারতুন আদান ও ইলওয়াদ এলমান (সম্পর্কে মা ও মেয়ে) সোমালিয়ার মানবাধিকারকর্মী। তাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করেছেন। তাঁদের ‘এলম্যান পিস মডেলটি’ এখন পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকায়ও ব্যবহূত হচ্ছে। সেকোসেসোলা ভেনিজুয়েলার দরিদ্র এলাকায় গড়ে ওঠা একটি সমবায় নেটওয়ার্ক। সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনায় সফলতার কারণে গত ৫৫ বছরে নেটওয়ার্কটি ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে।

আফ্রিকা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি গভর্ন্যান্স (অ্যাফিগো) উগান্ডায় কাজ করে। সংস্থাটি তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকর প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে সংগঠিত করতে কাজ করে।

১৯৮০ সালে সাবেক ইইউ এমপি জ্যাকব ফন উক্সেকুল রাইট লাইভলিহুড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা এবং বিশ্বের নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দৃষ্টান্তমূলক কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিবছর চারটি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর জন্য কোনো বিশেষ বিভাগ নেই। নির্বাচিতদের প্রত্যেককে ১০ লাখ ক্রোনার পুরস্কার দেওয়া হয়।

 ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি দেশের ১৯০ জন ব্যক্তি ও সংস্থাকে ‘রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করা এডওয়ার্ড স্নোডেন, কঙ্গোর ধাত্রীবিশারদ ডেনিস মুকওয়েগে (পরে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী), সুইডিশ লেখক অ্যাস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন ও তরুণ সুইডিশ পরিবেশবাদী গ্রেটা থুনবার্গ। আগামী ২ ডিসেম্বর সুইডেনের পার্লামেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের সনদ এবং অর্থ তুলে দেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা