kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বায়ুদূষণ : জার্মান সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৭:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বায়ুদূষণ : জার্মান সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মামলা

প্রতীকী ছবি। (সূত্র : পিকচার এলায়েন্স)

জার্মানির সাতজন নাগরিকের একটি দল 'বিপজ্জনক' উচ্চ বায়ুদূষণের জন্য দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর বাতাসে তাদের শ্বাস নেওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং সরকার তাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। মানবাধিকার আইনের আওতায় জার্মানিতে এই প্রথম এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। খবর বিবিসির।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালতটি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করে থাকে। মামলা দায়েরকারীরা আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য মামলাটি করেনি। তাদের উদ্দেশ্য বায়ুদূষণ কমাতে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করা। কারণ, জার্মানির বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক দেশের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর সঙ্গে বায়ুদূষণ জড়িত।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আইনজীবীদের একজন ইউরোপীয় কোর্ট অব জাস্টিসের অ্যাডভোকেট জেনারেল মে মাসে বলেছিলেন, নাগরিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার চেষ্টায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। তার এই বক্তব্যের পরেই এই মামলার ঘটনা ঘটল।

সাত সদস্যের দলটিতে শিশুদের পক্ষে লড়াই করা বাবা-মাসহ বেশ কয়েকজন হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তারা বলছেন, তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এবং রাজনীতিবিদরা তাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তারা জার্মানির সাতটি বৃহত্তম শহরের চারটি - বার্লিন, মিউনিখ, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ডুসেলডর্ফ শহরে বসবাস করেন। তাদের দাবি, তারা যে বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন তাতে দূষণের ঘনত্বের সীমা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমার তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি।

মামলা দায়েরকারীদের একজন ফয়কায় বেকার-বাটাগ্লিয়া মিউনিখে থাকেন। তার বাড়িটি জার্মানির অন্যতম বেশি দূষিত সড়কে অবস্থিত। তিনি বলেছেন, 'বায়ুদূষণ এমন একটি সমস্যা, যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। এটি মানুষের মনের মধ্যে নেই, কিন্তু এটি একটি হত্যাকারী। '

তিনি ব্যাখ্যা করে আরো বলেছেন, 'প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রতিদিন আমাদের বাড়ির সামনে তাদের গাড়ি চালায়, এটা ভয়ানক। আমরা সুযোগ পেলেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যাই। '

ডুসেলডর্ফে বসবাস করা কনস্ট্যানজে জানিয়েছেন, তিনি তার দুই সন্তানের জন্য মামলায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি নিজের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তার নামের প্রথম অংশ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, 'সন্তানদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। একটি শহরে বসবাস করে বায়ুদূষণের কারণে অসুস্থ হলে তাদের নিন্দা করা উচিত না। এর প্রভাব সারা জীবন তাদের বয়ে বেড়াতে হবে। '

এদিকে জার্মানির বায়ুদূষণের মাত্রা দেশটির নিজস্ব আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে মামলা দায়েরকারীরা বলছেন, বিজ্ঞানীদের ক্রমবর্ধমান ঐকমত্যের প্রতিফলন করতে এ আইন পরিবর্তন করা দরকার।

এ ছাড়া বাতাসে বিষাক্ততার বিপদ সম্পর্কে আরো প্রমাণ পাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২১ সালে প্রস্তাবিত সীমা কমিয়ে দিয়েছে। জার্মানির এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি বলেছে, ফেডারেল রাজ্যগুলো বায়ুর গুণমান মূল্যায়নের জন্য দায়ী এবং সীমা লঙ্ঘন হলে তারা ব্যবস্থা নেবে৷

চলতি মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাড়ির ধোঁয়ায় শ্বাস নিলে কিভাবে ফুসফুসের ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। আরো পড়ুন : অধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সারের কারণ বায়ুদূষণ : গবেষণা

ধারণা করা হচ্ছে, জার্মান আদালত বায়ু দূষণ কমানোর জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করতে পারে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ক্লায়েন্ট আর্থ এবং ডয়চে উমওয়েলথিল্ফ মামলাটিতে সমর্থন জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের সরকারকে ২০২১ সালে বাতাসের গুণমান উন্নত করতে ব্যর্থতার জন্য এক কোটি ইউরো জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা