kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কানাডায় ঝড়ের তাণ্ডবে সাগরে ভেসে গেছে বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২০:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কানাডায় ঝড়ের তাণ্ডবে সাগরে ভেসে গেছে বাড়ি

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে সাগরে ভেসে যায় এরকম ২০টির মতো বাড়ি- ছবি: রয়টার্স/বিবিসি

কানাডার আটলান্টিক উপকূলে হারিকেন ‘ফিওনা’র আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে বেশ কিছু বাড়ি ও অফিস সমুদ্রের পানিতে ভেসে গেছে। পানিতে ভেসে যাওয়ার পর থেকে অন্তত এক নারী নিখোঁজ ছিলেন।

আবহাওয়াবিদদের উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ফিওনা ঝড় তীব্রতা হারিয়ে হারিকেন থেকে শুক্রবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

কানাডায় এ ধরনের ঝড় বিরল ঘটনা। সাধারণত এত উত্তরের শীতল সাগরের সংস্পর্শে এসে ঝড়ের বেগ কমে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘এ রকম কিছু এর আগে দেখা যায়নি। ’ ঝড়ের পর জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য নোভা স্কশিয়া প্রদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ফিওনার প্রভাবে কানাডার পাঁচটি প্রদেশে মুষলধারে বৃষ্টিও হয়েছে। ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। কয়েক হাজার মানুষের বাড়ির বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

নোভা স্কশিয়ায় সেনা মোতায়েনের খবর দিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘যদি আরো কোনো জায়গায় কোনো ধরনের প্রয়োজন হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করবে। ’ ট্রুডো জানান, ফিওনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শেষকৃত্যে যাবেন না।

নোভা স্কশিয়া, প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং নিউ ব্রান্সউইকের পাশাপাশি কুইবেক প্রদেশের কিছু জায়গায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়।

খবরে বলা হয়, নিউফাউন্ডল্যান্ডের হাজার চারের মতো জনসংখ্যা অধ্যুষিত পোর্ট অ বাস্ক শহরে জলোচ্ছ্বাসে বেশ কিছু ঘর ও অফিস সাগরে ভেসে গেছে। জরুরি অবস্থায় থাকা ওই এলাকার একজন সাংবাদিক রেনে রয় বলেন, ‘এটি আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনা। ’ স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, কমপক্ষে ২০টি বাড়ির অস্তিত্ব নেই।

বিভিন্ন প্রদেশের বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুত্ সংযোগ চালু করতে আরো কয়েক দিন লাগবে। কারণ বাতাসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

শীতপ্রধান দেশ কানাডায় এ ধরনের হারিকেনের ঘটনা বেশ বিরল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে নোভা স্কশিয়ায় হারিকেন ‘হুয়ান’ আঘাত হেনেছিল, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপান্তরিত হয়। ওই সময় দুজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

কানাডায় আঘাত হানা ফিওনা গত সপ্তাহের শুরুতে পুয়ের্তো রিকো ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে আঘাত করে।

এদিকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ইয়ান আরো শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণে এগোতে থাকায় তা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন রূপে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা