kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

হিজাব ইস্যু: ইরানের এক প্রদেশেই গ্রেপ্তার ৭০০

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হিজাব ইস্যু: ইরানের এক প্রদেশেই গ্রেপ্তার ৭০০

ইরানি তরুণীর মৃতু‌্যর ঘটনায় ইরাকের নারীদের বিক্ষােভ-ছবি: এএফপি

ইরানের তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দেশটির গুইলান প্রদেশ থেকে ৬০ নারীসহ সাত শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সমর্থকরাও পাল্টা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

তেহরানভিত্তিক বার্তা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের গুইলান প্রদেশের পুলিশ প্রধান আজিজুল্লাহ মালেকি বলেছেন, ‘৬০ নারীসহ ৭৩৯ জন দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর ব্যবস্থার মধ্যে নরওয়ের রাজধানী অসলোভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) পরিচালক মোহাম্মদ আমিরি-মোগাদ্দাম শুক্রবার জানান, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। সপ্তাহখানেক আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশের ৮০টির শহরে ছড়িয়েছে।

মৃতের সংখ্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে ৩৫ জন বলে দাবি করা হচ্ছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর রক্ষণশীল নীতির অংশ হিসেবে নারীদের হিজাব পরায় বাধ্যবাধকতাসহ পোশাক পরার নিয়মনীতি বেধে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী হিজাব না পরার অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া কুর্দি তরুণী গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশের (মোরালিটি পুলিশ) হেফাজতে মারা যান। এর পর থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় ইরানের রক্ষণশীল শাসকরা শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি রক্ষণশীল মতাদর্শকে সামনে রেখে পরিস্থিতি সামলাতে চাইছেন। কারণ এবারের বিক্ষোভে উদ্ভূত নারী জাগরণ দেশটির রক্ষণীল কাঠামোর জন্য বেশ অস্বস্তির। নারীরা রক্ষণশীল নীতির বিরোধিতার পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছে।

এদিকে ইসলামি বিপ্লবের সমর্থক ইরানের ইসলামি ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিল পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পুরুষদের পাশাপাশি কালো বোরখা পরা নারীরা চলতি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। শুক্রবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পোশাক পরিধানের নির্দিষ্ট নিয়মের সমর্থনে কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানের চলতি বিক্ষোভ দমনে ‘অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয়’ শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিচ বলেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সভা করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। ’ সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স

 



সাতদিনের সেরা