kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পোল্যান্ডে গোরস্থানে মিলল প্রাচীন মানুষের অদ্ভূত কঙ্কাল

অনলাইন ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোল্যান্ডে গোরস্থানে মিলল প্রাচীন মানুষের অদ্ভূত কঙ্কাল

প্রাচীন আমলের কবরস্থান খোঁড়াখুড়ি করতে গিয়ে রহস্যময় এক কঙ্কালের খোঁজ পেলেন গবেষকরা। পোল্যান্ডের গ্রামে ১৭ শতকের একটি কবরস্থানে খোঁড়াখুড়ির কাজ চালাচ্ছিল নৃতত্ত্ববিদদের একটি দল। সম্প্রতি তারা এক নারীর দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন। এই আবিষ্কার রীতি মতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে গবেষকমহলে।

বিজ্ঞাপন

পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে ছোট্ট গ্রাম পিয়েন। গবেষণার স্বার্থেই সেখানকার এক প্রাচীন কবরস্থানে বেশ কিছু দিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করছিলেন স্থানীয় গবেষকদের একটি দল।  

তারা যে নারীর দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন, যে ভঙ্গিতে মাটির নীচে ওই মৃতদেহ পোঁতা হয়েছিল, তা দেখে বিস্মিত গবেষকরা।

দীর্ঘ দিনের মাটির আস্তরণ সরিয়ে দেখা গেছে, কঙ্কালটির ঠিক গলার উপর আনুভূমিকভাবে গাঁথা একটি কাস্তে। ওই কঙ্কালের পায়ের বৈশিষ্ট্যও চোখে পড়ার মতো। তার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙুল অন্য আঙুলের সঙ্গে এমন ভাবে জড়ানো, যা খুব সহজে খোলা যায় না। কবর দেওয়ার আগে দুই আঙুল যেন পেঁচিয়ে দিয়েছে কেউ।

নারীর কঙ্কালের মাথায় একটি রেশমের টুপির অবশিষ্টাংশও মিলেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাচীন কালে পোল্যান্ডের স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, এই ধরনের টুপি ব্যক্তিবিশেষের সামাজিক মর্যাদা নির্দেশ করত। অর্থাৎ, মৃত নারী জীবিত অবস্থায় উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।

কঙ্কালটির মুখগহ্বরে অক্ষত রয়েছে দাঁত। তবে উপরের পাটির মাঝখানের একটি দাঁতের গড়ন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। ওই দাঁতটি খুব উঁচু এবং বড়। ভ্যাম্পায়ারের দাঁতের গড়নের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাঁতের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন কেউ কেউ।

পোল্যান্ডের টোরান শহরের নিকোলাস কোপারনিকাস ইউনিভার্সিটির গবেষক দলের প্রধান ডারিয়ুসজ পোলিনস্কি বলেছেন, যে ভঙ্গিতে ওই মৃতদেহ পোঁতা হয়েছিল, তা নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। প্রাচীন ধারণা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কারো ফিরে আসা আটকাতে মৃতদেহ কবর দেওয়ার সময় বেশ কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করা হতো। মৃতের পা অথবা মাথা কেটে ফেলা, দেহ পুড়িয়ে ফেলা, উপুড় করে মাটিতে মাথা গুঁজে দেওয়া অথবা বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া এই পন্থাগুলোর মধ্যে ছিল অন্যতম।

মৃত্যুর পর ফিরে আসা ঠেকাতেই ওই নারীর বাম পায়ের বুড়ো আঙুল অন্য আঙুলের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করছেন পোলিনস্কি।

পূর্ব ইউরোপে খ্রিস্টীয় ১১ শতক নাগাদ মানুষের বিশ্বাস ছিল, মৃত্যুর পরেও কবর ভেদ করে উঠে আসতে পারে মৃত ব্যক্তি। ‘রক্তচোষা শয়তান’ বা ‘ভ্যাম্পায়ার’ হিসেবে সেটাই হতো তার নবজন্ম।

পোল্যান্ডের ওই কবরস্থানেই আরো একাধিক নরকঙ্কাল পাওয়া গেছে। যাদের মাথা ধাতব রড দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের বিশ্বাস ছিল, এ ভাবে মৃতদেহে আঘাত করলে তারা মৃত্যুতেই থমকে থাকে। আর ফিরে আসার চেষ্টা করে না।

পূর্ব ইউরোপের একাংশের মানুষ ভ্যাম্পায়ারের ধারণায় বিশ্বাস করতেন। সে ধারণা এক সময় এতটাই বদ্ধমূল হয়েছিল যে, সন্দেহের ভিত্তিতেও মেরেও ফেলা হতো অনেককে। তাছাড়া, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনায় কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলেও ভ্যাম্পায়ার হিসেবে তিনি আবার ফিরে আসতে পারেন বলে মনে করা হতো। তাদের ক্ষেত্রে মৃতদেহ কবর দেওয়া হতো বিশে‌ষ উপায়ে।

এর আগে ২০১৫ সালে পিয়েন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে ৪০০ বছরের পুরনো কবরস্থান খুঁড়ে একই ভঙ্গিতে পোঁতা পাঁচটি কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ঠিক গলার উপরে গাঁথা ছিল কাস্তে। এক বয়স্ক নারীর কঙ্কালের পশ্চাদদেশে কাস্তে এবং গলার কাছে পাথর গাঁথা হয়েছিল।

কখনও ১৪ বছরের কিশোরী কখনও ৩৫ বছরের যুবক, কখনও আবার ৬০ বছর বয়সি বৃদ্ধা। পোল্যান্ডের নানা প্রান্তে এমন নানা কঙ্কাল পাওয়া গেছে বার বার।

গবেষকদের একাংশ অবশ্য এই ধরনের কবরের অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা মনে করেছেন, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তিনি যেন নিশ্চিন্তে মাটির তলায় বিশ্রাম নিতে পারেন, সেই ভেবেই ধারালো কাস্তে, পাথরের সুরক্ষা দেওয়া হতো তাদের কবরে।

কেউ কেউ বলছেন, স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ডাইনি প্রথা কিংবা কালো জাদুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মৃতদেহ কবর দেওয়ার সময় এমন ব্যবস্থা করা হতো।

সূত্র: আনন্দবাজার।



সাতদিনের সেরা