kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

যুক্তরাজ্য : ১ লক্ষ পাউন্ড করে পাবে রক্ত কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্তরা

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ২১:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্য : ১ লক্ষ পাউন্ড করে পাবে রক্ত কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্তরা

ছবি: ১৯৭০ এবং ৮০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ফ্যাক্টর ৮

দূষিত রক্ত কেলেঙ্কারিতে যুক্তরাজ্যের চার হাজার ক্ষতিগ্রস্তের সবাইকে এক লক্ষ পাউন্ড করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। কেলেঙ্কারির কয়েক দশক পর এই প্রথম ক্ষতিগ্রস্তরা এবং তাদের পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে। খবর বিবিসি।

ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলো এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডে অক্টোবরের শেষের দিকে অর্থ প্রদান করা হবে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দারাও এই অর্থ পাবেন বলে জানা গেছে। এই প্রথম সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের আয়, যত্ন এবং জীবনযাপনের অন্যান্য খরচের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলো। এই ক্ষতিপূরণ করমুক্ত হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘এই মর্মান্তিক অন্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওয়া কষ্ট এবং যন্ত্রণা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা তাদের এবং যারা তাদের পরিবার হারিয়েছে তাদের জন্য সঠিক কাজটি করার পদক্ষেপ নিচ্ছি। ’

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ইতিহাসে দূষিত রক্ত কেলেঙ্কারিকে সবচেয়ে খারাপ চিকিৎসা বিপর্যয় বলা হয়। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ফ্যাক্টর ৮ এবং ৯ নামক একটি নতুন চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। পরে হিমোফিলিয়া এবং অন্যান্য রক্তের রোগসহ হাজার হাজার এনএইচএস রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি ওষুধ আমদানি করা হয়। ওষুধটি হাজার হাজার দাতার রক্তের প্লাজমা থেকে তৈরি করা হয়েছিল। রক্তদানকারীদের মধ্যে অনেকেই কয়েদি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যদি একজন দাতাও হেপাটাইটিস বা এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত থাকে তাহলে পুরো ব্যাচের ওষুধ দূষিত হতে পারে। ১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে এনএইচএসের চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস সি সংক্রমিত হয়ে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ জন মারা গিয়েছিল।

১৯৭৫ সালে রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শৈশবে হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন রস কুপার। এ ব্যাপারে কোনো ধারণা ছাড়াই জীবনের প্রথম ১৯টি বছর কাটিয়ে দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটি আমার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ পুরো জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে। আমি আমার কাজ চালিয়ে যেতে পারিনি। আমি সন্তান নিতে পারিনি, কারণ হেপাটাইটিস সি-এর চিকিৎসা আমাকে বন্ধ্যা করে দিয়েছে। ফলে আমার বিবাহিত জীবনেও এটি প্রভাব ফেলেছে। আমার বাবা-মা এবং ভাইকেও এটি প্রভাবিত করেছে এবং আমি নিজে এখনো প্রভাবিত হচ্ছি। ’

হেপাটাইটিস তার লিভারের যে ক্ষতি করেছে তা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের দিকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কুপার।


ছবি : ১৮ বছর বয়সে এইচআইভিতে আক্রান্ত গ্যারি ওয়েবস্টার এবং শৈশবে হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রস কুপার

এদিকে গ্যারি ওয়েবস্টার ১৮ বছর বয়সে এইচআইভিতে আক্রান্ত হন। তিনি হিমোফিলিয়ার চিকিৎসার জন্য একটি স্কুল থেকে রক্ত নেওয়ার পর তার পুরো জীবন বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘এটি আমার সম্পর্ক, কাজ এবং আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। আমি ২০১২ সালে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম। তার পর থেকে সংগ্রাম করে চলেছি। এখনো আমার একটি বন্ধক রয়েছে, সাথে প্রচুর ঋণ। এই অর্থ পেলে আমার অনেক কাজে লাগবে। কিন্তু আমি যা হারিয়েছি তা ফিরে পাব না। আমি খুব ভাগ্যবান, কারণ আমি এখনো বেঁচে আছি। ’

বছরের পর বছর পার হয়েছে, কিন্তু সরকার কোনো দায় স্বীকার করেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বেশ কিছু স্কিম চালু করলেও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড এবং অন্যান্য কিছু দেশের ক্ষতিগ্রস্তদের কিংবা তাদের পরিবারকে কখনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা