kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ অক্টোবর ২০২২ । ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

টুইটার ব্যবহারে সৌদি নারীর ৩৪ বছরের জেল

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১৯:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টুইটার ব্যবহারে সৌদি নারীর ৩৪ বছরের জেল

সালমা আল-শেহাব ও তার পরিবার। ছবি: দ্যা ইউরোপীয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস

টুইটার ব্যবহার করে ৩৪ বছরের জেল হলো সৌদি আরবের এক নারীর। টুইটারে রাজপরিবারের সমালোচক তথা ভিন্নমতাবলম্বী ও সমাজকর্মীদের ফলো করা এবং তাদের টুইটগুলো রিটুইট করাই ছিল তার অপরাধ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এর সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাজাপ্রাপ্ত নারীর নাম সালমা আল-শেহাব। তিনি ব্রিটেনের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি করছিলেন। ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে এ রকম বিপদের মুখে পড়েন তিনি।  

সৌদি আরবের বিশেষ সন্ত্রাস দমন আদালত প্রথমে অবশ্য তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন তাকে। আদালত জানান, সালমার জন্য জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে এবং নাগরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। তাই তার ইন্টারনেটের ব্যবহার একটি ‘অপরাধ’। পরে গত সোমবার সরকারি আইনজীবী আদালতের কাছে সাজার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আরজি জানান। এর পরই আদালত তাকে ৩৪ বছরের কারাভোগের সাজা দেন। সেই সাথে ৩৪ বছর তার বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে জানান আদালত।

সালমা ২০১৮ বা ২০১৯ সাল থেকে ব্রিটেনে পড়াশোনা করছেন। তার দুই সন্তান ও স্বামী এই মুহূর্তে সেখানেই রয়েছেন। তাদের দেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছিলেন সালমা।  

দ্য ইউরোপীয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস সালমার শাস্তির নিন্দা করেছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতিমধ্যে এ ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে।

টুইটারের কাছে মামলার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। টুইটারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একজন হলেন সৌদি ধনকুবের প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল। তিনি তার বিনিয়োগ কম্পানি কিংডম হোল্ডিংসের মাধ্যমে টুইটারের পাঁচ শতাংশেরও বেশি অংশের মালিক।

সালমার টুইটার প্রফাইলে ফলোয়ারের সংখ্যা দুই হাজার ৫৯৭ জন। তার করা টুইটের মধ্যে রয়েছে করোনাকালীন তার বাচ্চাদের সঙ্গে ছবি। এ ছাড়া তিনি মাঝে মাঝে সৌদি থেকে নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বীদের টুইটগুলো পুনঃ টুইট করেছিলেন, যাতে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে তার ইনস্টাগ্রাম প্রফাইলে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৫৯ জন। প্রফাইলের পরিচিতিতে তিনি লিখেছেন, তিনি একজন ডেন্টাল হাইজিনিস্ট, মেডিক্যাল শিক্ষাবিদ, লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্রী এবং প্রিন্সেস নুরাহ বিনতে আব্দুলরহমান ইউনিভার্সিটির একজন প্রভাষক। একজন স্ত্রী এবং তার ছেলে নোয়াহ এবং অ্যাডামের মা।

সূত্র : ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান



সাতদিনের সেরা