kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চীনের মহড়া পেলোসির সফরের সরাসরি জবাব: চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২২ ০১:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের মহড়া পেলোসির সফরের সরাসরি জবাব: চীন

চীনের রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য- ছবি: আল জাজিরা

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন আল জাজিরাকে বলেছেন, তাইওয়ানের অদূরে তার দেশের বর্ধিত সামরিক তৎপরতা মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিতর্কিত সফরের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। তাইওয়ানের আশেপাশের সাগরে ছয়টি এলাকায় তাজা গোলার মহড়া স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় শুরু হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত তা চলবে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন মহড়ার এলাকায় ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া মহড়ার সময় ২২টি চীনা যুদ্ধবিমান তাইওয়ান প্রণালীর "মধ্যরেখা" অতিক্রম করে। তাইপেই জবাবে তাদের একদল যুদ্ধবিমানকে আকাশে ওড়ায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের হালনাগাদ তথ্য অনুসারে চীনা যুদ্ধবিমানগুলোকে অনুসরণ করার জন্য তাইওয়ানের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ মোতায়েন করা হয়।

ন্যান্সি পেলোসি গত কয়েক দশকের মধ্যে তাইওয়ান সফর করা সর্বোচ্চ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তা। বেইজিংয়ের কাছ থেকে কয়েকদফা কড়া হুমকি উপেক্ষা করে মঙ্গলবার তিনি দ্বীপটিতে সফর করেন।
উল্লেখ্য, চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে তার বিদ্রোহী অঞ্চল হিসেবে দেখে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘‘আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি থেকে একটি শিক্ষা নেবে। তাদের উচিত 'এক-চীন' নীতির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করা। দ্বীপটির স্বাধীনতার কোনো দাবিকে সমর্থন করা তাদের উচিত নয়। আমরা আশা করি তারা চীনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন আরো কিছু করা বন্ধ করবে। বার্তাটি পরিষ্কার। ’’

চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ কর্নেল শি ইয়ি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, মূল ভূখণ্ডের একাধিক স্থান থেকে রকেট বাহিনী তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে নির্ধারিত সাগরসীমায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

কর্নেল শি ইয়ি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করছিল। সবগুলোই তাদের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত করেছে। মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রের নির্ভুলতা এবং এলাকায় শত্রুর প্রবেশ বা নিয়ন্ত্রণ ঠেকানোর ক্ষমতা পরীক্ষা করা।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘আঞ্চলিক শান্তিকে নষ্ট করে এমন অযৌক্তিক পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে চীনের মহড়ার নিন্দা করেছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বলেছেন, তারা সংঘাত উসকে দেবেন না, তবে দৃঢ়ভাবে নিজের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবেন।

আরেক আঞ্চলিক শক্তি পশ্চিমের মিত্র জাপান বলেছে, চীনের ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) অবতরণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নোবুও কিশি সাংবাদিকদের বলেছেন, টোকিও এই ঘটনার জন্য "কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে চীনের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে"।

জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন, এই প্রথমবারের মতো চীনা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ইইজেড-এ অবতরণ করেছে, যা দেশের উপকূলরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত। সূত্র: আল জাজিরা

 



সাতদিনের সেরা