kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

গ্যাস ভাগাভাগি নিয়ে ইইউতে ‘বিভক্তি’

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ জুলাই, ২০২২ ২০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যাস ভাগাভাগি নিয়ে ইইউতে ‘বিভক্তি’

ইউক্রেনের একটি গ্যাস সরবরাহ বিষয়ক স্থাপনা- ছবি: এএফপি

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানিসংকট ক্রমেই প্রকট রূপ নিচ্ছে ইউরোপে। রাশিয়া এরই মধ্যে ইউরোপে গ্যাসের চাপ কমিয়ে আনায় জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পুতিন প্রশাসন হয়তো ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ পুরো বন্ধ করে দেবে, এমন আশঙ্কা থেকে গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় দেশগুলো একটি সংহতি চুক্তির আওতায় তাদের সামগ্রিক গ্যাসের ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে সম্মত হয়।

হাঙ্গেরি ছাড়া ইউনিয়নের বাকি ২৬ দেশ ওই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া সত্যিই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে গ্যাসের ব্যবহার আরো কমাতে ও নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি বাড়াতে হবে। ইইউর এক কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, দেশগুলোর নিজের স্বার্থে একে অন্যকে সাহায্য করা উচিত। জার্মানির মতো দেশে অর্থনৈতিক সংকট ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থা গোটা জোটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর মতে, জার্মানির পতন হলে ইউরোপের সবার পতন হবে।

সংহতি চুক্তির অন্যতম বিষয় হচ্ছে আপৎকালীন সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গ্যাস ভাগাভাগি নিশ্চিতকরণ। এ ছাড়া আসন্ন শীতের মধ্যে জ্বালানির বিকল্প উৎস, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও ঠিক করতে চাচ্ছে ইউরোপ। সংহতি চুক্তির লক্ষ্য হলো, সরবরাহে সংকট হলে যাতে আতঙ্কিত না হয়ে ঝুঁকি প্রশমন ও জ্বালানি মজুদের মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

কিন্তু রয়টার্স বলছে, জ্বালানি ভাগাভাগির বিষয়টি নির্ভর করে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট দেশের সদিচ্ছার ওপর। ইউরোপীয় আইন অনুসারে এর সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের সঙ্গে গ্যাস ভাগাভাগিতে বাধ্য, যাতে সংকটে পড়া দেশগুলোর হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাগুলো ব্যাহত না হয়। এ জন্য দেশগুলোর সরকার একে অন্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৬ সদস্যের মধ্যে মাত্র আটটি দেশের মধ্যে ছয়টি বিষয়ে এমন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। ইইউর জ্বালানিবিষয়ক নীতিনির্ধারক কাদরি সিমসন গত মাসেই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বৃদ্ধি না পাওয়ার বিষয়টিকে আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

ইউরোপের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। আগামী শীতে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার কথা। আর জার্মানি চেষ্টা করে যাচ্ছে পোল্যান্ড ও ইতালির সঙ্গে চুক্তি করতে। তবে হাঙ্গেরির মতো দেশ এখনো রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গত সপ্তাহের গ্যাস ভাগাভাগি চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান দেশটির। ইউরোপে জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহারকারী দেশ ইতালি ও ফ্রান্সের মধ্যে মাত্র একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে, যা যথেষ্ট নয়। ইতালির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গ্যাস মজুদের জন্য তাঁর দেশ গ্রিসের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের জ্বালানিমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁরা এখন কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তির জন্য প্রস্তুত নন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইইউর উচিত একটি ক্ষতিপূরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া, যাতে ওই প্রকল্প থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে গ্যাস সংরক্ষণ ও ভাগাভাগির জন্য অর্থ দেওয়া যায়। এ ধরনের ক্ষতিপূরণ প্রকল্প ছাড়া গ্যাস ভাগাভাগিতে সংহতি চুক্তি কাজে আসবে না বলেও তাঁরা মনে করেন।

ব্রুগেল থিংকট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো সিমন তাগলিয়াপিয়েত্রার মতে, সংহতি চুক্তিতে গ্যাস ভাগাভাগির বিষয়ে যদি কোনো স্পষ্ট নীতিমালা না থাকে, তাহলে এই সংহতি চুক্তি শুধু কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। সূত্র : রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা